
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মিশরস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে মানব পাচার চক্রের সহায়তায় লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে গ্রিসে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৩ আগস্ট ৩৮ বাংলাদেশি ও চার সুদানি নাগরিকসহ ৪২ জন তবরুক থেকে রাবারের নৌকায় যাত্রা করেন। কিন্তু নেভিগেশন ব্যবস্থা না থাকায় একপর্যায়ে নৌকাটি দিকভ্রষ্ট হয়ে পড়ে। পরে জ্বালানি ফুরিয়ে গেলে সেটি সাগরে ভাসতে থাকে। প্রায় ১০ দিন সাগরে ভেসে থাকার পর ১৩ আগস্ট নৌকাটি মিসরের মারসা মাতরুহ উপকূলে পৌঁছায়। স্থানীয় পুলিশ তখন যাত্রীদের উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ব্যক্তিদের মধ্যে ১৮ জন গুরুতর অসুস্থ ও অচেতন ছিলেন। তাঁদের মারসা মাতরুহ জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, বর্তমানে ২৯ জন অভিবাসনপ্রত্যাশী হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাংলাদেশি নাগরিক আবদুল করিমের সঙ্গে কথা বলে নৌযাত্রার বিস্তারিত তথ্য জানতে পারেন দূতাবাসের কর্মকর্তারা। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, তীব্র গরম, প্রচণ্ড রোদ, খাদ্য ও পানির সংকটে ৯ বাংলাদেশি ও একজন সুদানি নাগরিক মারা যান। দীর্ঘ সময় সাগরে ভেসে থাকায় মরদেহগুলোতে পচন ধরেছিল। একপর্যায়ে জীবিত যাত্রীরা বাধ্য হয়ে সেগুলো সমুদ্রে ভাসিয়ে দেন। ঘটনার পর থেকে মিসরে বাংলাদেশ দূতাবাস স্থানীয় পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছে। চিকিৎসাধীন বাংলাদেশিদের শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কনস্যুলার সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।