
নিউজ ডেস্কঃ দেশে ৬৪৮ সংসদ-সদস্য একই সঙ্গে বিদ্যমান-এ নিয়ে তুমুল বিতর্ক চলছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদের ২৯৯ এবং একাদশ সংসদে সংরক্ষিত আসনসহ ৩৪৯ জনসহ মোট ৬৪৮ সংসদ-সদস্য এখনো বহাল। সরকারের পক্ষে বলা হচ্ছে, সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতার কারণেই এটা হচ্ছে। এতে কোনো সমস্যা নেই। উদ্দেশ্যমূলকভাবে জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টির জন্য এ ধরনের কথা বলা হচ্ছে। অন্যদিকে বিএনপিসহ বিরোধীরা বলছে, এটি সাংবিধানিকভাবে অবৈধ। ২৯ জানুয়ারি পর্যন্ত এ অরাজকতা থাকবে।
সংবিধান বিশেষজ্ঞ, জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক বলেছেন, দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যদের শপথ নিয়ে সংবিধানে যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তিনি বলেন, সংবিধানে স্পষ্ট বলা আছে, মেয়াদ পূর্তির পর নতুন নির্বাচিতরা কার্যভার গ্রহণ করবেন। এখানে শপথ নিয়ে তো নির্বাচিতরা বসে থাকবেন না। কার্যভার গ্রহণ মানে শপথ নিবে। একাদশ সংসদের মেয়াদ পূর্তি হবে ২৯ জানুয়ারি। অতএব এখানে দুটি সংসদের সংসদ-সদস্যরা বিদ্যমান আছেন। বৃহস্পতিবার যুগান্তরকে দেওয়া এক প্রতিক্রয়ায় এ কথা বলেন এই সংবিধান বিশেষজ্ঞ।
শাহদীন মালিক বলেন, সংবিধানের ১২৩-এর (খ) অনুচ্ছেদে বলা আছে, পাঁচ বছরের আগে সংসদ ভেঙে দিলে ভেঙে দেওয়ার ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। আর সংসদ ভেঙে না দিলে, সংসদ যদি পূর্ণ মেয়াদ হয়, তাহলে মেয়াদ শেষ হওয়ার পূর্ববর্তী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করতে হবে। তারপর স্পষ্ট করে বলা আছে, তবে শর্ত থাকে যে, নতুন সংসদের সংসদ-সদস্যরা বর্তমান সংসদের মেয়াদ উত্তীর্ণ হওয়ার পর কার্যভার গ্রহণ করবেন। আমি মনে করি, এখানে সংবিধানের যে বাধ্যবাধকতা আছে, তা সম্পূর্ণভাবে অনুসরণ করা হয়নি।
জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, দেশে একসঙ্গে ৬৪৮ জন সংসদ-সদস্য আছেন বলে যে বিতর্ক উঠেছে, তা ঠিক নয়। মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রীর কার্যক্রম চালাতে কোনো অসুবিধা নেই।রাজনৈতিক কারণে সারা দেশে একটি বিভ্রান্তি সৃষ্টি করার উদ্দেশ্যে এ বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নির্বাচিত সংসদ-সদস্যরা কীভাবে মন্ত্রী হিসাবে দায়িত্বে বসলেন-এমন এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রী হিসাবে শপথ নেওয়ার পর মন্ত্রীর কার্যক্রম চালাতে কোনো অসুবিধা নেই।