
নিউজ ডেস্কঃ স্বাধীনতার ৫৩ বছরেও সম্পন্ন হয়নি জাতির শ্রেষ্ঠসন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের পূর্ণাঙ্গ ও নির্ভুল তালিকা প্রণয়নের কাজ। এ পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে পাঁচটি তালিকা হয়েছে। কিন্তু সরকার পরিবর্তনের পর একের পর এক সংশোধন হয়েছে এ তালিকা। সর্বশেষ যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রণয়নের কাজ। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে কখনো এ তালিকা আলোর মুখ দেখবে কিনা-ত নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। জানতে চাইলে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী বীর মুক্তিযোদ্ধা আ ক ম মোজাম্মেল হক বলেন, আমাদের যাচাই-বাছাই যা হওয়ার হয়ে গেছে। এখন আর শুনানি হবে না। আপিল শুনানিও বন্ধ করে দিয়েছি। যতটুকু হয়েছে বাকিদের বিষয়ে পরবর্তী সরকার সিদ্ধান্ত নেবে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমান সরকার ২০১৩-১৪ সালে দেশের কোথাও কোনো মুক্তিযোদ্ধা তালিকার বাহিরে থেকে গেছে কিনা-তা নিশ্চিত করতে নতুন করে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা তৈরির উদ্যোগ নেয়। তখন বাদপড়া মুক্তিযোদ্ধাদের কাছ থেকে অনলাইনে আবেদন আহ্বান করা হয়। ২০১৪ সালের ৩১ অক্টোবর আবেদন গ্রহণ করা হয়। ওই সময় করা আবেদনগুলো ক-খ-ও গ তালিকা নাম দিয়ে ২০১৭ সালের ২২ জানুয়ারি যাচাই-বাছাই কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়। এক্ষেত্রে বিধান করা হয়, উপজেলা পর্যায়ে যাচাই-বাছাইয়ে মুক্তিযোদ্ধারা আবেদনকারীকে শনাক্ত করবেন। যদি সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা এই মর্মে সাক্ষ্য দেন যে, আবেদনকারী একজন মুক্তিযোদ্ধা, তাহলে তার আবেদন ক-তালিকাভুক্ত করে গেজেট প্রকাশে জামুকা বিবেচনার জন্য পাঠানো হয়। জামুকার সুপারিশসহ মন্ত্রণালয় গেলে তা গেজেট প্রকাশ করা হয়।
এছাড়া উপজেলা পর্যায়ের যাচাই-বাছাইয়ে যদি ৫ জন বীর মুক্তিযোদ্ধা সাক্ষ্য দেন আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা আবার ৪ জন যদি সাক্ষ্য দেন আবেদনকারী বীর মুক্তিযোদ্ধা নন, তাহলে সে আবেদনটি খ-তালিকাভুক্ত করা হয়। এই তালিকার আবেদনকারী জামুকায় আপিল করেন। আর কারও আবেদনের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মুক্তিযোদ্ধারা যদি বলেন তিনি অ-মুক্তিযোদ্ধা, তাহলে তার আবেদন গ-তালিকাভুক্ত করা হয় এবং তিনি জামুকায় আপিল করেন। জানতে চাইলে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধ কাউন্সিলের (জামুকা) মহাপরিচালক ড. মো. জহুরুল ইসলাম রোহেল বলেন, মুক্তিযোদ্ধাদের নামের তালিকা চূড়ান্তকরণের কাজ প্রায় শেষ। তবে কিছু কিছু জেলায় এখনো যাচাই-বাছাইয়ের কাজ চলছে। জামুকা এখন আপিল শুনানি করছে।