
নিউজ ডেস্কঃ পুঁজি বাজারের নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটি এন্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনকে নিজের ইচ্ছামত ব্যবহার করছেন সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিসুর রহমান। তাদের অপতৎপরতায় পোশাক শিল্পের অন্যতম সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও অগ্রযাত্রা মারাত্মকভাবে ব্যবহত হচ্ছে। কোন প্রকার নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করেই বিএসইসি কতৃপক্ষ নগ্নভাবে প্রতিষ্ঠানটর পদচ্যুত সাবেক চেয়ারম্যানকে পূনঃ প্রতিষ্ঠায় কাজ করে চলেছে। আনিস গংদের এসকল কর্মকান্ডে ঝুকির মধ্যে পড়তে চলেছে জনপ্রিয় এ প্রতিষ্ঠানটিতে জনসাধারনের কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ। এমনটাই অভিযোগ তুলেছেন সিমটেক্স এর পরিচালক(অর্থ) সাবেক ব্যাংকার এমএ আবুল শাহজাহান। প্রতিষ্ঠানটিক বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল মোঃ সরোয়ার হোসেনকে সাথে নিয়ে সাংবাদিকদের সামনে তিনি সম্প্রতি এসব অভিযোগ তুলেছেন।
অনুসন্ধানে জানায়ায় ২০২১ সালের ফেব্রয়ারি মাসে পোশাক শিল্পের অন্যতম সহযোগী এই প্রতিষ্ঠানটির শীর্ষপদে দায়িত্ব গ্রহনের পর থেকেই নানান অনিয়ম ও দূর্নীতিতে জড়িয়ে পড়েন লেঃ কর্নেল আনিসুর রহমান। তিনি কোন নিয়মের তোয়াক্কা না করেই গায়ের জোরে ইচ্ছানুযায়ী সন্মানী গ্রহনসহ, তার বেআইনী কথা না শুনলে নিয়মিত কর্মকর্তা কর্মচারীদের সাথে দূর্ব্যাবহার, ছাঁটাই ও শারিরিক ও মানসিক নির্যাতন চালাতে থাকেন। এই পরিস্থিতিতে সিমটেক্স পরিচালনা পর্ষদ আনিসের উপস্থিততেই গত ১৭ আগষ্ট ২০২২ বোর্ড সভা করে চেয়ারম্যান পদে পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেয়। সভায় প্রতিষ্ঠানটির অপর স্বতন্ত্র পরিচালক বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল, অধুনা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক মোঃ সরোয়ার হোসেনকে সর্বসম্মতভাবে চেয়ারম্যান নিযুক্ত করে।
রোর্ডে সভায় বিদায়ী চেয়ারম্যান আনিস জেনারেল সরোয়ারের চেয়ারম্যান পদে আসীন হওয়াকে স্বাগত জানালেও বাইরে এসে মারাত্মকভাবে ক্ষোভ প্রকাশ করতে থাকেন এবং কোম্পানিটি দখলে নেয়ার অপকৌশল গ্রহন করেন।এরই ধারাবাহিকতায় তিনি ৩১আগষ্ঠ ২০২২ তারিখে স্বশস্ত্র অবস্থায় ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে সিমটেক্সে প্রবেশ করে ফিল্মি কায়দায় ফ্যাক্টরী দখলের অপচেষ্টা করেন। যদিও প্রতিষ্ঠানে কর্মরত শত শত শ্রমিক কর্মচারি তাৎক্ষনিকভাবেই আনিসের এই অপচেষ্টা রুখে দেন। এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় অস্ত্র আইনে মামলা রজু করে। এবং ঘটনাস্থল থেকে ৫টি সটগান, ১টি পিস্তল ও বেশকিছু গুলিসহ আনিস ও তার সহযোগীদের আটক করে জেলে প্রেরন করে। ইতিমধ্যেই মামলাটি তদন্ত শেষে আনিসের বিরুদ্ধে চার্জশিটও দাখিল হয়েছে। বর্তমানে আদালতে মামলাটির বিচার কার্যক্রম চলছে।
তথ্যানুসন্ধানে আরও জানাগেছে, দুর্নীতিসহ নানান অপকর্মের দায়ে পদচ্যুত সাবেক চেয়ারম্যানের আনিসের ভিত্তিহীন অভিযোগে প্রভাবিত হয়েই বিএসইসি কতৃপক্ষ সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজের শীর্ষপদে আবারও আনিসকে বসিয়ে পর্ষদ পুনর্গঠনের চেষ্টা করছে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২০২২ সালের ৭ ডিসেম্বর সিমটেক্স ইন্ডাস্ট্রিজ লি এর বর্তমান চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব) মো. সারোয়ার হোসেন, সাবেক চেয়ারম্যান মো. আনিসুর রহমান সহ কোম্পানীর ব্যবস্থাপনা পরিচালক, পরিচালক (অর্থ), কোম্পানী সচিব, বিএসইসির কমিশনার ডঃ শেখ শামসুদ্দিন আহমেদসহ ১২ জনের একটি দল আলোচনায় বসে। সে আলোচনার পর সিমটেক্স এর পরিচালনা পর্ষদকে মধ্যস্ততা ও পারস্পারিক সমঝোতার মাধ্যমে আনিসুর রহমানের সাথে সমস্যার সমাধান করতে নির্দেশনা দেন বিএসইসির কমিশনার ডঃ শেখ শামসুদ্দিন আহমেদ।
পরবর্তীতে কোনপ্রকার সুনিদৃষ্ট কারন ছাড়াই গত ২২শে মার্চ ২০২৩ একতরফাভাবেই সিমটেক্স এর পরিচালনা পর্ষদ ভেঙে দিয়ে চেয়ারম্যানসহ নতুন ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দেয় নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। যদিও তাদের এই আদেশ ধোপে টেকেনি। তাৎক্ষনিকভাবেই বিএসইসির এই সিদ্ধান্তকে স্থগিত করেছে দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বিএসইসি’র জারিকৃত এই আদেশের বিরুদ্ধে কোমপানির পরিচালনা পর্ষদ, সাধারন শেয়ার হোল্ডার ও একজন স্বতন্ত্র পরিচালক দেশের সর্বোচ্চ আদালতে পৃথক পৃথক রিট আবেদন করেন। প্রতিটি রিট পিটিশনই আদালত আমলে নিয়ে বিএসইসির পদক্ষেপকে স্থগিত ঘোষনা করে কেন তা বাতিল করা হবে না মর্মে কারন দর্শানোর নোটিশ জারি করেছে হাইকোর্ট।
যদিও এতকিছুর পরও থেমে নেই পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিসুর রহমানের অপতৎপরতা । তিনি নিয়মিত যোগাযোগ রেখে চলেছেন কোম্পানী সচিবসহ বিভিন্ন পদে কর্মরত দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের সাথে। সাংবাদিকদের কাছে এসকল কর্মকর্তাগন অভিযোগ করেছেন, পদচ্যুত চেয়ারম্যান আনিস সিমটেক্সের দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের তারপক্ষে কাজ করার জন্য শাসিয়ে যাচ্ছেন। তিনি বলছেন বিএসইসি যে বোর্ড গঠন করছেন তা তাকে (সাবেক চেয়ারম্যান আনিস) পূনঃ প্রতিষ্ঠার জন্যই। তাই যাকে যে পদেই বসানো হোক না কেন, তিনিই সব ক্ষমতার কেন্দ্রে থাকবেন এবং তার ইচ্ছাতেই কোম্পানীটি পরিচালিত হবে। যদি এখানে কর্মকর্তাগন চাকরী করতে চান তাহলে সকলকে এখন থেকেই তার (আনিসের) সাথে হাত মিলিয়ে কাজ করতে হবে। অন্যথায় তিনি দায়িত্ব নিয়েই সকলকে খুব বাজে ভাবে বিতাড়িত করবেন।
এ বিষয়ে জানার জন্য বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) এর কমিশনার ডঃ শেখ শামসুদ্দিনের কাছে জানার জন্য ফোন করলে তিনি সাংবাদিক পরিচয় শুনেই ফোনটি রেখে দেন। তবে এ বিষয়ে খোলামেলা মতামত দিয়েছেন বিএসইসির সাবেক কমিশনার বর্তমানে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসা অনুষদের ডিন হেলাল উদ্দীন। তার ভাষ্যমতে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ এন্ড একচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) যে কাজটি করেছে সেটি আদৌ সঠিক হয়নি। এভাবে কোন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদ গঠনের এক্তিয়ার বিএসইসির নেই বলে তিনি মনে করেন।