News71.com
 Bangladesh
 04 Sep 22, 11:22 PM
 386           
 0
 04 Sep 22, 11:22 PM

বিমানবন্দরেই শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন নরেন্দ্র মোদী॥ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা

বিমানবন্দরেই শেখ হাসিনাকে স্বাগত জানাবেন নরেন্দ্র মোদী॥ সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের শুভ সূচনা

নিউজ ডেস্কঃ তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে সোমবার সন্ধ্যায় দিল্লি যাচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আমন্ত্রণে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে এই সফরকে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ও কূটনেতিক মহল খুবই গুরুত্ব দিচ্ছে । পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই সফরের মধ্যে দিয়ে ভারত-বাংলাদেশের সম্পর্কে নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে। বাংলাদেশের রাজনীতি নতুন মোড় নিতে পারে। কূটনীতিকদের মতে, বাংলাদেশের আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন ছাড়াও দু’দেশের মধ্যে বিদ্যমান বানিজ্যিক সম্পর্ক আরও জোরদার, আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক রাজনীতি, রোহিঙ্গা সংকট, জ্বালানি সহ নিত্যপণ্যের সরবরাহে সৃষ্ট সংকটের সমাধানের বিষয়ে একটি বোঝাপড়ার মধ্যে আসতে আগ্রহী দুই দেশ। কার্যত বাংলাদেশ ও ভারতের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক জোরদার করাই প্রাধান্য পাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই ভারত সফরে।

দিল্লীর কুটনৈতিক সুত্র জানায়, ভারতের প্রধানামন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানাবেন। সেখানেই আনুষ্ঠানিকভাবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে গার্ড অফ অনার প্রদান করা হবে। পরে মহাত্মা গান্ধীর সম্মানে রাজঘাটে শ্রদ্ধা নিবেদন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিরাও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর ভারত সফরে তাঁর সঙ্গে থাকবেন। সফরকালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু এবং উপ-রাষ্ট্রপতি জগদীপ ধনখড় ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্করের সঙ্গেও পৃথক সাক্ষাৎ করবেন। ঐতিহাসিক হায়দরাবাদ হাউসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠক মিলিত হবেন শেখ হাসিনা। ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির দেওয়া রাষ্ট্রীয় মধ্যাহ্নভোজেও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী যোগ দেবেন।

এছাড়াও কনফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান ইন্ডাস্ট্রিজ (সিআইআই) কর্তৃক আয়োজিত বেশ কয়েকটি অনুষ্ঠানে তাঁর যোগদানের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার। পাশাপাশি তিনি ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় শহিদ ও আহত ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনীর ২০০ জন সদস্যের বংশধরদের জন্য বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে মুজিব বৃত্তি প্রদান করবেন। আগামী ৮ সেপ্টেম্বর আজমির শরিফে হজরত খাজা মঈনুদ্দিন চিশতি (রহ.)-এর মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে ভারত সফর শেষ করবেন শেখ হাসিনা। সেদিন বিকালে তিনি দেশে ফিরবেন। দ্বিপক্ষীয় আনুষ্ঠানিক বৈঠকের পর বেশ কয়েকটি চুক্তি এবং সমঝোতা স্মারক সই হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

কুটনৈতিক সূত্র জানায়, এবারের স্বাক্ষরের অপেক্ষায় থাকা সমঝোতা স্মারক ও নবায়ন তালিকার মধ্যে রয়েছে-দুই দেশের স্টাফ কলেজের মধ্যে সহযোগিতা, বিচার বিভাগীয় সহযোগিতা ও কুশিয়ারা নদীর জল উত্তোলন, ব্লু-ইকোনমি নিয়ে সমঝোতা স্মারকের নবায়ন। এ ছাড়া রেলওয়ে মন্ত্রণালয়ের দুটি সমঝোতা স্মারক হতে পারে। নেপালের জিএমআর কোম্পানির সঙ্গে ভারতের ওপর দিয়ে জলবিদ্যুৎ আমদানি সংক্রান্ত একটি চুক্তি সই হতে পারে। এবারের সফরে রূপসা নদীর ওপর নির্মিত ব্রিজ হস্তান্তরসহ আরও প্রকল্প উদ্বোধন হতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে রামপাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র ইউনিট-১।

দিল্লির কূটনৈতিক সূত্র থেকে জানা গেছে, কানেকটিভিটির দিকটির প্রতি বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করছে দিল্লি। দুই দেশের মধ্যে ১৯৬৫ সালের আগের যোগাযোগ ব্যবস্থা ফের চালু করতে চায় দিল্লি। রেলওয়ের ক্ষেত্রে আখাউড়া-আগরতলা রেল সংযোগ, খুলনা-মংলা রেল সংযোগ এবং দুই দেশের মধ্যে নতুন ট্রেন মিতালি এক্সপ্রেস চালুতে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে ভবিষ্যৎ প্রকল্পের কথা আসতে পারে যৌথ ঘোষণায়। ঢাকা ও দিল্লি­র কূটনৈতিক সূত্র জানায়, গুরুত্ব পাবে দ্বিপক্ষীয় রাজনৈতিক সহযোগিতা। কারণ বর্তমান বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে নানান ঘটনা প্রবাহে এক দেশের সঙ্গে আরেক দেশের সংকট তৈরি হচ্ছে। বিশ্বের প্রভাবশালী রাষ্ট্রগুলো বিভেদ তৈরি করছে বিরোধের বাইরে থাকা রাষ্ট্রগুলোর মধ্যেও। বাংলাদেশ এসব বৈশ্বিক পরিস্থিতি মোকাবেলায় ভারতের সর্বাত্মক সহযোগীতা চাইবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এই সফরে।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন