
নিউজ ডেস্কঃ পাবনার রূপপুরে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের কাজ শেষ হলে দক্ষিণাঞ্চলে আরেকটি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র নির্মাণ করা হবে, সম্প্রতি এমনটাই জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তেমনটি হলে নিজস্ব কাঁচামাল দিয়েই কেন্দ্রটি পরিচালনা করা সম্ভব হবে বলে মনে করছেন পরমাণু সংশ্লিষ্ট বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাককানইবি) এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর নেতৃত্বে একদল গবেষক সম্প্রতি কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ মাটি ও পানির নমুনা সংগ্রহ করে জাপানে পরীক্ষার পর উচ্চমাত্রায় ইউরেনিয়ামের সন্ধান পান। গত ৯ জানুয়ারি প্রকাশিত এক গবেষণা প্রতিবেদনে কক্সবাজারের ভূ-গর্ভস্থ মাটিতে থাকা জিরকন ও মোনাজাইটে ৯৯০ পিপিএম মাত্রারও বেশি ইউরেনিয়াম থাকার তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক ড. আশরাফ আলী সিদ্দিকীর ধারণা, কক্সবাজারে প্রাথমিক অনুসন্ধানে যা পাওয়া গেছে, তা খুবই উৎসাহব্যঞ্জক। গত বছর চট্টগ্রামের পতেঙ্গা চালানো জরিপেও মাটিতে সহনীয় মাত্রার চেয়ে বেশি তেজস্ত্রিয় পদার্থের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। যারমধ্যে ইউরেনিয়াম, থোরিয়াম ও রেডিয়াম রয়েছে। এসব জরিপ চট্টগ্রাম উপকূলের মাটিতেও ইউরেনিয়াম ও থোরিয়াম থাকার জোরালো ইঙ্গিত দিচ্ছে। দেশের অন্যান্য সমুদ্র উপকূলীয় এলাকাতেও এই খনিজ পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা রয়েছে। আর সেই ইউরেনিয়ামের যোগান দেশ থেকে আসতে পারে বলে মনে করছেন গবেষকরা। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় ভবিষ্যতে এই মূল্যবান খনিজ সম্পদের ব্যবহারের জন্য এখনই প্রস্তুতি শুরু করা উচিত বলে মনে করেন তারা।