
নিউজ ডেস্কঃ পদ্মাসেতু প্রকল্পের কাজ করছে চীনের ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান চায়না মেজর ব্রিজ ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানি (এমবিইসি) ও নদীশাসনে সিনো হাইড্রো করপোরেশন। চীনের এ দুইটি প্রতিষ্ঠানের পক্ষে বাংলাদেশে কাজ করছেন প্রায় এক হাজার ১০০ চীনা প্রকৌশলী ও শ্রমিক। চলতি মাসের গেল ২৫ জানুয়ারি চীনা নববর্ষ উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও প্রায় দুই শতাধিক প্রকৌশলী-শ্রমিক ছুটিতে চীনে গেছেন। কিন্তু চীনে করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের ভয়াবহতা বাড়ছেই। প্রায় দুই শতাধিক শ্রমিককে সেদেশেই থাকার নির্দেশনা দিয়েছে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান। এছাড়া বাংলাদেশে কর্মরত ২২ জন চীনা প্রকৌশলী-শ্রমিককে চিহ্নিত করে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। মুন্সীগঞ্জ সিভিল সার্জন আবুল কালাম আজাদ জানান, পদ্মাসেতুতে ২২ জানুয়ারির পর চীন থেকে কোনো শ্রমিক-প্রকৌশলী আসতে দেওয়া হয়নি। তবে ২২ তারিখের আগে দুই সপ্তাহের মধ্যে আসা ২২ জন শ্রমিক-প্রকৌশলীদের প্রকল্প এলাকায় পৃথকস্থানে নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছ। মুন্সিগঞ্জ স্বাস্থ্য বিভাগ থেকে জেলায় কর্মরত চীনাদের স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণে একটি ফর্ম পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে।
গতকাল মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) পদ্মাসেতুতে করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সচেতনতামূলক সভা সূত্রে জানা যায়, বর্তমানে পদ্মাসেতুতে যেসব চীনা শ্রমিক কর্মরত রয়েছেন তাদের কেউই করোনাভাইরাসে আক্রান্তের সিন্ড্রোম নেই। পরবর্তী নির্দেশনা না আসা পর্যন্ত যারা চীনে ছুটিতে রয়েছেন তাদের সেদেশেই থাকার জন্য বলা হয়েছে। পদ্মা প্রকল্পে সার্বক্ষণিক একটি স্বয়ংসম্পূর্ণ মেডিক্যাল ইউনিট রয়েছে। চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে দেশি শ্রমিকরা স্বাভাবিক ভাবেই কাজ করছেন কোনো সমস্যা হচ্ছে না। পদ্মাসেতু প্রকল্প সূত্রে জানা গেছে, সেতুতে কর্মরত শ্রমিক ও প্রকৌশলীদের মধ্যে মাস্ক বিতরণ করেছে সেতু কর্তৃপক্ষ। করোনাভাইরাস মোকাবিলায় পদ্মাসেতুতে সতর্কতামূলক নানা কর্মকাণ্ড হাতে নেওয়া হয়েছে। যেসব চীনা শ্রমিক পদ্মাসেতুতে কর্মরত রয়েছেন তাদের চলাচলে বাড়তি নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। চায়নাদের বাসস্থানের ভেতরেই বেশিরভাগ সময় থাকার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। দেশি শ্রমিকদের নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে চীনা শ্রমিকদের সঙ্গে কাজ করার পরামর্শও দেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।