
নিউজ ডেস্কঃ নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার রুপালী ব্যাংক শাখার কিছু কর্মকর্তা কর্মচারীর বিরুদ্ধে রাজস্ব (ডাক টিকিট) টিকিটের টাকা সরকারের কোষাগারের বিপরীতে নিজের পকেটে ঢুকানোর অভিযোগ উঠেছে। গ্রাহকদের বিদ্যুৎ বিলের কপিতে নির্ধারিত রাজস্ব টিকিট না লাগিয়ে রাজস্ব ফাঁকি দিচ্ছেন ওই কর্মকর্তা কর্মচারীরা। অভিযোগ উঠেছে রাজস্ব টিকেটের ব্যয় দেখিয়ে মাস শেষে মোটা অঙ্কের টাকা নিজেরাই হাতিয়ে নিচ্ছেন তারা। সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, ৪০০ টাকার বেশি যে কোন অঙ্কের বিদ্যুৎ বিল গ্রহণের ক্ষেত্রে গ্রাহক কপিতে ১০টাকা মূল্যের রাজস্ব টিকিট লাগানোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে। কিন্তু ব্যাংকটির এ শাখা দীর্ঘদিন ধরে বিদ্যুৎ বিলের গ্রাহক কপিতে কোনও রাজস্ব টিকিট ব্যবহার করছেনা দায়িত্বশীল ব্যক্তিরা। ফলে সরকার প্রতিমাসে লাখ লাখ টাকার রাজস্ব হারাচ্ছে। কিশোরগঞ্জ বাজারের মুদি ব্যবসায়ী মমিনুর রহমান বলেন, আমার ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান থেকে প্রতিমাসে ৭শত থেকে ১হাজার টাকা পর্যন্ত বিদ্যুৎ বিল আসে। আমি নিয়মিত ভাবেই কিশোরগঞ্জ রুপালী ব্যাংক শাখায় বিদ্যুৎ বিল জমা দিয়ে আসছি কিন্তু কোনও দিন আমার বিলে রাজস্বের টিকেট লাগানো হয়নি।
এছাড়াও আনিছুল ইসলাম নামে একজনের ৬১৩ টাকা, শ্রী নির্মল রায়ের ১২৩৭ টাকাসহ এরকম শত শত গ্রাহকের লক্ষ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল জমা নিলেও রুপালী ব্যাংক শাখার কর্মকর্তাগণ গ্রাহক কপিতে রাজস্ব টিকেট না লাগানোর অভিযোগ উঠেছে। নর্দান ইলেকট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানি (নেসকো) লিমিটেড কিশোরগঞ্জ শাখার আবাসিক প্রকৌশলী আশিকুর রহমান খাঁন বলেন, এ উপজেলায় আমাদের ৬ হাজার ৯ শত ৩ জন গ্রাহক রয়েছে। এর মধ্যে শুধুমাত্র রুপালী ব্যাংক শাখায় গ্রাহকরা প্রতিমাসে ১৫ লক্ষ থেকে ২০ লক্ষ টাকা বিদ্যুৎ বিল জমা দিয়ে থাকে। সরকারিভাবে ৪০০ টাকার উপরে প্রতিটি বিলে ১০ টাকা মূল্যের রাজস্ব টিকেট লাগাতে হবে। অভিযোগের বিষয়ে কিশোরগঞ্জ উপজেলার রুপালী ব্যাংক শাখার ব্যবস্থাপক দৌলতুজ্জামান বিদ্যুৎ বিলে রাজস্ব টিকিট না লাগানোর বিষয়ে বলেন, ৪০০ টাকার উপরে বিদ্যুৎ বিল জমা নিলে প্রতিটি বিলে ১০ টাকা মূল্যের ডাক টিকিট লাগাতে হবে। কিন্তু ডাক টিকিট না লাগিয়ে যারা বিদ্যুৎ বিল জমা নিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।