
নিউজ ডেস্কঃ রোহিঙ্গা প্রশ্নে মিয়ানমার নিয়ে বিশ্বের প্রভাবশালী দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার অবস্থানকে ‘লজ্জাজনক’ আখ্যায়িত করেছেন জাতিসংঘের বিশেষ দূত (র্যা বপোর্টিয়ার) ইয়াংহি লি। বাংলাদেশে পাঁচদিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার রাজধানীর লো মেরিডিয়ান হোটেলে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ মিয়ানমারে মানবাধিকার লংঘনের বিষয়টি আইসিসির কাছে পাঠাতে ব্যর্থ হয়েছে।“আমরা নিরাপত্তা পরিষদে এ নিয়ে চাপ দেওয়া অব্যাহত রাখব। পাশাপাশি মিয়ানমারের বিষয়টি দেখতে একটি আন্তর্জাতিক এডহক ট্রাইব্যুনাল গঠন করার কথা বলব।”এই ট্রাইব্যুনালের ধরন কেমন হবে জানতে চাইলে ইয়াংহি লি বলেন, আগামী মার্চে মানিবাধিকার কমিশনে যে প্রতিবেদন দেবেন সেখানে একটি মডেল সুপারিশ করবেন। সেটা হতে পারে সিয়েরালিওন বা রুয়ান্ডার ট্রাইব্যুনালের মতো।২০১৭ সালের অগাস্টে রাখাইনে মিয়ানমার সেনাবাহিনীর দমনাভিযানের মুখে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নেয় সাত লাখের বেশি মানুষ। সেখানে সেনা সদস্যরা নির্বিচারে হত্যা, ধর্ষণের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধ ঘটিয়েছে বলে পালিয়ে আসাদের বিবরণে উঠে এসেছে।
লাখ লাখ রোহিঙ্গার স্রোতে বাংলাদেশে সৃষ্ট শরণার্থী সংকটের সমাধানে মিয়ানমার যাতে জাতিসংঘের সঙ্গে কাজ করে সেজন্য নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব তোলার উদ্যোগ নিয়েছিল যুক্তরাজ্য। তবে চীন ও রাশিয়া ওই উদ্যোগ বর্জন করে।এই সংকটের সমাধানে চীনের পক্ষ থেকে মিয়ানমারের সঙ্গে কাজ করার প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশকে দেওয়া হলেও এখনও তা কোনো ফল বয়ে আনেনি।মিয়ানমার নিয়ে চীন ও রাশিয়ার এই অবস্থান তুলে ধরে তাদের কাছে আপনার প্রত্যাশা কী, সে প্রশ্ন জাতিসংঘের দূত ইয়াংহি লিকে করেছিলেন এক সাংবাদিক।জবাবে তিনি বলেন, “নিরাপত্তা পরিষদে চীন ও রাশিয়ার ভূমিকা বিশেষ করে মিয়ানমারের বিরুদ্ধে নির্যাতনের সব তথ্য প্রমাণ থাকা সত্ত্বেও চুপ থাকাটা লজ্জাজনক। নির্যাতনের অভিযোগ যে মিথ্য নয়, তা কক্সবাজার ঘুরে দেখে যান। আমি বিশেষ করে চীনকে বলব, যেহেতু তারা গ্লোবাল লিডার বা বিশ্বনেতা হওয়ার চেষ্টায় আছে, মানবাধিকারকে সম্মান না দেখিয়ে আপনি কখনও গ্লোবাল লিডার হতে পারবেন না।”চীন ও রাশিয়াকে রাজি করাতে জাতিসংঘ কেন ব্যর্থ হচ্ছে এমন এক প্রশ্নের উত্তরে ইয়াংহি লি বলেন, “এই দুই রাষ্ট্রকে রাজি করাতে আমাদের চেষ্টা অব্যাহত থাকবে। তবে এটা কোনো ব্যর্থতার বিষয় নয়, এটা নিরাপত্তা পরিষদের গঠনগত বিষয়, আর সেটা হয়েছিল গত শতকের শুরুতে। এখন চলছে একবিংশ শতাব্দী। এই শতাব্দী হবে সংস্কারের শতাব্দী।“মারাত্মক মানবাধিকার লংঘনের বিষয়গুলো কীভাবে দেখা হবে, সেজন্য একটা দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক করতে হবে।”