
নিউজ ডেস্কঃ দেশের ইতিহাসে ভয়াবহ জঙ্গি হামলা হয়েছিল ২০১৬ সালে হলি আর্টিজান বেকারিতে। ঘৃণ্য ও বর্বরতম এই জঙ্গি হামলা মামলার রায় ছিল ২০১৯ সালে আদালত অঙ্গনে অন্যতম আলোচিত ঘটনা। বিচারিক আদালতের রায়ে আট আসামির সাতজনের মৃত্যুদণ্ড হয়। তবে রায়ের দিন দু’জন আসামির একটি টুপি পরা কেন্দ্র করে শুরু হয় তুমুল আলোচনা-সমালোচনা। যে টুপিটিকে আন্তর্জাতিক জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেট বা আইএস-এর প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। এছাড়াও ব্লগার অভিজিত রায় হত্যা ও জাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সাল আরেফিন দীপন হত্যা মামলার বিচারকাজও শুরু হয়েছে ২০১৯ সালে। তাই জঙ্গিদের বিচারে এই বছরে বড় অগ্রগতি হয়েছে বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
২০১৬ সালের ১ জুলাই রাতে গুলশানের হলি আর্টিজান রেস্টুরেন্টে হামলা চালিয়ে বিদেশি নাগরিকসহ ২০ জনকে হত্যা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন নব্য জেএমবির সদস্যরা। পরদিন সকালে সকালে সেনাবাহিনীর প্যারা কমান্ডো সদস্যদের অভিযানকালে দেশি-বিদেশি ১৩ জন জিম্মিকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করতে সক্ষম হয়। এর আগেই দু’জন বিদেশিসহ ১৯ জনকে জীবিত অবস্থায় উদ্ধার করে। জিম্মি থাকা অবস্থায় হত্যা করা হয় ৯ জন ইতালীয়, ৭ জন জাপানি, একজন ভারতীয়, একজন বাংলাদেশি-আমেরিকান দ্বৈত নাগরিক ও দু’জন বাংলাদেশিসহ মোট ২০ জনকে। এ ঘটনায় জঙ্গিদের ছোড়া গ্রেনেডের আঘাতে প্রাণ হারান বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সালাউদ্দিন আহমেদ ও সহকারী পুলিশ কমিশনার রবিউল ইসলাম। এই ঘটনায় হওয়া মামলায় ২০১৮ সালের বছরের ২৬ নভেম্বর অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরুর নির্দেশ দেন সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. মজিবুর রহমান। এক বছরের মধ্যে মামলায় মোট ২১১ জন সাক্ষীর মধ্যে ১১৩ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। এরপর গত ১৭ নভেম্বর আসামিদের আত্মপক্ষ সমর্থন এবং রাষ্ট্র ও আসামিপক্ষের আইনজীবীদের যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের মাধ্যমে বিচারকাজ শেষ হয়। আর মামলার রায় ঘোষণা করা হয় ২৭ নভেম্বর।