
নিউজ ডেস্কঃ ইসাহক আলী মাস্টার, বয়স ১০০ বছর ছাড়িয়েছে। তাতে কি এখনো তিনি একজন নিবেদিতপ্রাণ আওয়ামী লীগ সদস্য। যে কোনো দলীয় কর্মসূচিতে এই বয়সেও উপস্থিত হতে ভুল হয় না তার। তার কর্মস্পৃহা আর দলের প্রতি একাগ্রতা হার মানায় যেকোনো তরুণ কর্মীর স্পৃহাকেও। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ডাকে মহান মুক্তিযুদ্ধে কুষ্টিয়ায় যে ক’জন সংগঠক ছিলেন তাদের মধ্যে অন্যতম তিনি অথচ কোনোদিন তিনি মুক্তিযোদ্ধার স্বীকৃতি চাননি। ছিলেন আব্দালপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাতা ও টানা ৪০ বছর সভাপতি এবং আব্দালপুর ইউনিয়নের রেকর্ড ৫ বারের নির্বাচিত চেয়ারম্যান। টানা ৪০ বছর নিরলসভাবে খেটেছেন নিজ ইউনিয়নে আওয়ামী লীগকে শক্তিশালী করতে। একাত্তর সালের পূর্বে বঙ্গবন্ধু যখন কুষ্টিয়া আসেন তখন হরিনারায়ণপুর বাজারে অনুষ্ঠিত জনসভায় মানপত্র পাঠ করেছিলেন তিনি। এছাড়াও তৎকালীন কৃষীমন্ত্রী আব্দুর রব সেরনিয়াবাত কুষ্টিয়া সফরে আসলে ইসহাক মাস্টারের নেতৃত্বেই অনুষ্ঠিত হয় বিভিন্ন অনুষ্ঠান। গণতন্ত্রের টুটি চেপে ধরে তৎকালীন সৈরশাসক হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ যখন দেশজুড়ে চালাচ্ছিলেন সৈরশাসন তখনকার সৈরশাসন বিরোধী তীব্র আন্দোলনের সময় আওয়ামী লীগ কেন্দ্রীয় কার্যালয় থেকে বুকে বোম বেঁধে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কুষ্টিয়া আসেন তিনি। এছাড়াও হ্যাঁ-না ভোটের সময় নিজ ইউনিয়ন কেন্দ্রে না ভোটকে জিতিয়ে দেয়ায় তার অবদান ছিল অনস্বীকার্য যার ফলস্বরুপ সেনাবাহিনী তাকে যশোর ক্যান্টনমেন্টে বেশ কিছুদিন আটকে রেখে অমানুষিক নির্যাতন চালায় এবং পরবর্তীতে মৃতপ্রায় অবস্থায় মুক্তি দেয় যার ক্ষতচিহ্ন তিনি আজো বয়ে বেড়াচ্ছেন।