
আন্তর্জাতিক ডেস্কঃ গোটা ভারতের বাজারে পেঁয়াজের দাম আকাশছোঁয়া। বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) কলকাতার পাইকারি বাজারেই কেজিপ্রতি পেঁয়াজ একলাফে একশো রুপি ছুঁলো। ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতীতে কখনও পেঁয়াজের দাম এতটা বাড়েনি। এর জেরে কলকাতার মধ্যবিত্তদের সঙ্গে খুচরা ব্যবসায়ীদেরও মাথায় হাত পড়েছে। খুচরো ব্যবসায়ীরা ঠাওর করে উঠতে পারছেন না, কত দামে তাদের বিক্রি করা উচিত। ১৩০ থেকে ১৫০ রুপির নিচে কীভাবে বেচবেন তা বুঝে উঠতে পারছেন না তারা। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, কারণ পেঁয়াজ পচনশীল সবজি। তাদের মতে, বস্তাপিছু দুই থেকে তিন কেজি পেঁয়াজ এমনিতেই পচে যায়। এর সঙ্গে দাম বাড়ায় ক্রেতার সংখ্যা কমেছে। ফলে আরও বেশিদিন পেঁয়াজ রাখতে হবে। এতে পচনের সম্ভাবনা আরও বেড়েছে। তাই কোনো মতেই ১৩০ থেকে ১৫০ রুপির নিচে পেঁয়াজ বেচা সম্ভব নয়। তবে এর চেয়ে পেঁয়াজ বিক্রিই বন্ধ করে দেওয়া শ্রেয় বলে মনে করেন অনেক খুচরা বিক্রেতা।
একদিকে যখন কলকাতায় কী হবে পেঁয়াজের ভবিষ্যত- তা নিয়ে ভাবাচ্ছে ব্যবসায়ীমহলকে। এ পর্যায়ে কার্যত হাত তুলে নিলেন কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রী রামবিলাস পাসোয়ান। গোটা দেশে বাজারে পেঁয়াজের কেজি ১০০ রুপি হলেও সরকারের তরফ থেকে তেমন কোনো উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিরোধীরা। এদিন কেন্দ্রীয় খাদ্য ও গণবণ্টনমন্ত্রীর উত্তর সেই অভিযোগকেই মান্যতা দিয়েছে বলে মত দিয়েছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা। এক প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী পাসোয়ান বলেছেন, আমাদের কিছু করার নেই। চাহিদা বেশি। জোগান কম। তাই পেঁয়াজের এই আকাশছোঁয়া দাম। তার যুক্তি, অকাল বৃষ্টি ও চলতি বছর উৎপাদন ২৬ শতাংশ কম হওয়াতেই পেঁয়াজের দাম বেড়েছে। একই সঙ্গে পাসোয়ান বলেন, রাজ্যগুলোয় কোথাও কত পেঁয়াজ মজুদ আছে, তা রাজ্য সরকাররেই দেখার দায়িত্ব। পশ্চিমবঙ্গসহ সমস্ত রাজ্যের মুখ্যসচিবকে এ ব্যাপারে চিঠিও লেখা হয়েছে।