News71.com
 Bangladesh
 01 Dec 19, 10:58 AM
 110           
 0
 01 Dec 19, 10:58 AM

খাসিয়াদের জীবন-জীবিকা সংকটে, পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি ॥ অধ্যাপক ড. শাকিল

খাসিয়াদের জীবন-জীবিকা সংকটে, পৃষ্ঠপোষকতা জরুরি ॥ অধ্যাপক ড. শাকিল

নিউজ ডেস্কঃ ‘প্রাচীন জনগোষ্ঠী খাসিয়া কেবল সিলেট, মেঘালয়, আসাম ও ত্রিপুরারই নয়, তারা পৃথিবীরও কয়েকটি আদি জাতিগোষ্ঠীর মধ্যে অন্যতম। ভারত উপমহাদেশের আদি মানবগোষ্ঠীর মধ্যে অস্ট্রিকরা যে সবচেয়ে প্রাচীন, এ ব্যাপারে অনেক গবেষক ও নৃ-বিজ্ঞানী একমত। আর খাসিয়াদের ভাষা ও সংস্কৃতি বিবেচনায় তাদের অস্ট্রিক মানবগোষ্ঠীর অংশ বলে ধরা হয়। যারা আজ পরিবেশগত বিপর্যয় ও নির্বিচারে বন ধ্বংসের কারণে জীবন-জীবিকা নিয়ে সংকটে।’ শনিবার (৩০ নভেম্বর) এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ আয়োজিত বিশেষ লেকচারে সিলেট শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অধ্যাপক ড. জহিরুল হক শাকিল এ কথা বলেন। এ দিন বিকেলে রাজধানীর এশিয়াটিক সোসাইটি অব বাংলাদেশ অডিটোরিয়ামে ‘খাসিয়া জনগোষ্ঠীর জীবনযাপন ও সংস্কৃতি: একটি বিশ্লেষণ’ শীর্ষক বিশেষ লেকচার সেশনে তিনি বলেন, বাংলাদেশের জাতিগোষ্ঠীগুলো ও তাদের লোকসংখ্যা দিন দিন কমে যাচ্ছে। এর মধ্যে সিলেটের খাসিয়ারা সবচেয়ে বড় সংকটে। এদের সংখ্যা কমে যাওয়ার অর্থ, দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে একেকটি জীবনপ্রণালী, একেকটি আচার-আচরণ, একেকটি ভাষা, একেকটি কৃষ্টি, একেকটি সংস্কৃতি। এমনকি ক্ষেত্র বিশেষে একেকটি ধর্মীয় বিশ্বাসও। তবে বাংলাদেশে এসব জাতিগোষ্ঠীর সংখ্যা নিয়ে যেমন রয়েছে বিতর্ক, তেমনি তাদের জনসংখ্যা নিয়েও কোনো নির্ভরযোগ্য পরিসংখ্যান নেই।

অভিজ্ঞতা প্রয়োগ করতে গিয়ে অধ্যাপক শাকিল বলেন, কমনওয়েলথ স্কলারশিপ নিয়ে যুক্তরাজ্য থেকে পিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট বিষয়ে মাস্টার্স ও ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজে পিএইচডি ডিগ্রি করতে গিয়ে বুঝেছি, খাসিয়ারা রাষ্ট্রের কাছে তেমন কিছু প্রত্যাশা করে না। তারা শুধু নিজেদের মতো করে জীবনযাপন করতে চায়, নিজেদের পূর্ব পুরুষের ভূমির স্বীকৃতি চায়। যেখানে শত শত বছর ধরে বসবাস করছে, প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর ভিত্তি করে জীবন-জীবিকা নির্বাহ করছে, তারা চায় সেগুলোতে কেউ যেন ভাগ না বসায়, ধ্বংস না করে। কারণ পরিবেশগত বিপর্যয়, নির্বিচারে বন ধংস প্রাকৃতিক সম্পদ নির্ভর জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকায় বিরূপ প্রভাব ফেলে।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন