
নিউজ ডেস্ক: উপকূলে প্রবেশ করেই ভারতের পশ্চিমবঙ্গের সাগরদ্বীপে আছড়ে পড়ল প্রলয়ঙ্কারি ঘূর্নিঝড় বুলবুল। আগামী তিন ঘন্টা সেখানে তাণ্ডব চালাতে পারে এই শক্তিশালী ঘূর্ণিঝড়। আগামী এক দু ঘণ্টায় আরও বাড়তে পারে ঝড়ের গতিবেগ।ইতিমধ্যেই নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়ে আসা হয়েছে সাগরদ্বীপ, সুন্দরবনের ভারতীয় অংশের প্রায় ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে। এই ঝড়ের সর্বোচ্চ বেগ হতে পারে ঘণ্টায় ১৫০ কিমি। বুলবুলের প্রভাবে সকাল থেকে কলকাতা ও তার পার্শ্ববর্তী এলাকায় অঝোরে বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বইছে ঝোড়ো হাওয়া। ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা জি কে দাস জানিয়েছেন, ‘‘কলকাতায় বৃষ্টির পরিমাণ বাড়বে। শহরে ঘণ্টায় ৫০-৭০ কিমি বেগে বইবে ঝোড়ো হাওয়া’’। জানা যাচ্ছে, বুলবুলের সবথেকে বেশি প্রভাব পড়বে দুই ২৪ পরগনায়।
ঘূর্ণিঝড় ‘বুলবুল’ নিয়ে পশ্চিমবঙ্গের নাগরিকদের সতর্ক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এক টুইটে মমতা লিখেছেন, ‘‘গোটা পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে প্রশাসন। ২৪ ঘন্টা খোলা থাকছে রাজ্য সরকারের কন্ট্রোল রুম। অযথা আতঙ্কিত হবেন না। ইতিমধ্যেই উপকূলবর্তী এলাকা থেকে ১ লক্ষ ২০ হাজার মানুষকে নিরাপদ স্থানে রাখা হয়েছে’’। বুলবুলের জেরে আজ সন্ধে ৬টা থেকে রবিবার ভোর ৬টা পর্যন্ত বন্ধ রাখা হচ্ছে কলকাতা বিমানবন্দর। হাওড়া, হুগলিতে ফেরি পরিষেবা বন্ধ রাখা হয়েছে। ট্রেন চলাচলের উপর নজর রাখছে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব রেল কর্তৃপক্ষ। আলিপুর আবহাওয়া দফতরের অধিকর্তা জি কে দাসের সাবধানবাণী, ‘‘ঝড়ের সময় বাড়িতেই থাকুন’’।
এদিকে সুন্দরবন উপকুলে এখন চলছে বুলবুলের তান্ডব। স্থলেভাগে ঢুকে পড়েই তাণ্ডবলীলা শুরু করেছে ঘূর্নিঝড় বুলবুল, এমনটাই জানা গিয়েছে। ঝোড়ো হাওয়া এবং বৃষ্টির দাপটে লন্ডভণ্ড উপকুলের ভারতীয় অংশের বকখালি, সাগরদ্বীপ, কাকদ্বীপ এলাকা। আবহাওয়া দফতরের পূর্বাভাস মতোই দাপট বেড়েছে ঝড়ের। যদিও এখনও কলকাতা শহরে কিছুটা কম দাপট রয়েছে বুলবুলের। তবে আগামী এক দু ঘন্টার মধ্যে বাড়তে পারে ঝড়ের গতিবেগ। অন্যদিকে, নবান্নের কন্ট্রোল রুম থেকে পরিস্থিতির উপর নজর রাখছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় নিজেই । ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে, তৈরি হয়েছে অস্থায়ী ক্যাম্প, এমনটাই খবর নবান্ন সূত্রে। পুরো বিষয়টি খতিয়ে দেখছেন মুখ্যমন্ত্রী। কিছুক্ষন আগে বাংলাদেশের আবহাওয়া বিভাগ থেকে সুন্দরবন উপকুলে ঝড়ের আঘাতের কথা জানানো হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ও সাম্ভব্য ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে সাতক্ষিরাতে সেনাবাহিনীকে নামানো হয়েছে।