News71.com
 Bangladesh
 31 Oct 19, 07:38 PM
 64           
 0
 31 Oct 19, 07:38 PM

ভিসি’র পদত্যাগসহ ১০দফা দাবিতে গানে-আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়॥

ভিসি’র পদত্যাগসহ ১০দফা দাবিতে গানে-আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর আহছানউল্লা বিশ্ববিদ্যালয়॥

নিউজ ডেস্কঃ শিক্ষার্থীদের গানে গানে চলমান আন্দোলনে উত্তাল রাজধানীর আহছানউল্লা বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়। উপাচার্যের (ভিসি) পদত্যাগসহ ১০ দফা দাবিতে চলা আন্দোলনের কারণে ইতোমধ্যে স্থগিত করা হয়েছে ভর্তি পরীক্ষা। বন্ধ রয়েছে নিয়মিত ক্লাস-পরীক্ষাও। শিক্ষার্থীদের দেওয়া তালা ঝুলছে সব দপ্তর, ক্লাসরুম ও ক্যান্টিনে। বৃহস্পতিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির তেজগাঁও ক্যাম্পাসে গিয়ে দেখা যায়, নজরুল সঙ্গীতের সুরে মুখরিত গোটা ক্যাম্পাস। চলছে দেশাত্মবোধক গান ‘কুলহারা এই ঢেউয়ের সাগর পাড়ি দেবো রে’। সবাইকে চাঙ্গা রাখতেই বোধহয় গিটার হাতে গাওয়া হচ্ছে দুয়েকটি রোমান্টিক গানও। গত সোমবার (২৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনের চতুর্থ দিন এভাবেই গানে গানে কাটানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা।

অনার্স শেষবর্ষের ছাত্র ও আন্দোলনরত শিক্ষার্থী ফাহাদ বলেন, বর্তমান ভিসি ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন দুর্নীতিগ্রস্ত। ভিসির আত্মীয়কে শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ দিতে সবার যোগসাজশে কমানো হয়েছে প্রয়োজনীয় সিজিপিএ’র হার। নামে বিশ্ববিদ্যালয় হলেও এখানে উন্মুক্ত বিদ্যাচর্চার সুযোগ নেই। কো-কারিকুলার অ্যাকটিভিটি নেই, সাংস্কৃতিক চর্চা নেই, নেই কোনো ধরনের ক্লাব। শিক্ষার্থীরা একটা উদ্যোগ নিলে সেখানে প্রশাসনের কোনো সহায়তা পাওয়া যায় না। আমরা চাঁদা তুলি আর সেই অনুষ্ঠানও করতে হয় ক্যাম্পাসের বাইরে। প্রথম বর্ষের আরেক শিক্ষার্থী জাহিদ হোসাইন বলেন, ২০১৯-এর স্প্রিং সেশন থেকে সেমিস্টার ফি প্রায় ৮০ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৫০০ টাকা করা হয়েছে।


শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে এত টাকা নেওয়া হলেও শিক্ষার ন্যূনতম সুযোগ-সুবিধা নেই এখানে। নয়তলার ছাদ থেকে পানি পড়ে। বৃষ্টি হলে ক্লাস থেকে বের হয়ে যেতে হয়। এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিক বৈঠক না হলেও ট্রেজারার ও ডিন আমানউল্লাহ বেশ কিছু দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এর মধ্যে উপাচার্যকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্র। তবে, সব দাবি মানার দাপ্তরিক আদেশ না আসা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। শিক্ষার্থীদের আন্দোলন ও প্রশাসনের সিদ্ধান্ত সম্পর্কে এখন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন