
নিউজ ডেস্কঃ বিজ্ঞানমনস্ক লেখক অভিজিৎ রায়ের ওপর হামলার বিষয়টি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) একজন শিক্ষকের মাধ্যমে জানতে পারেন তার বাবা একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষক প্রফেসর ড. অজয় রায়। এরপর ছোট ছেলে অনুজিৎ রায়কে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান তিনি। এরপর অভিজিৎ ও তার স্ত্রীকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান তারা। সেখানে ওইদিন রাতেই মারা যান অভিজিৎ। সোমবার (২৮ অক্টোবর) সন্ত্রাসবিরোধী বিশেষ ট্রাইব্যুনালের ভারপ্রাপ্ত বিচারক জেসমিন আরা বেগমের আদালতে ঘটনার বর্ণনা দেন অভিজিৎ হত্যা মামলার সাক্ষী ড. অজয় রায়। তবে সেই শিক্ষকের নাম বা তার বিভাগের নাম বলতে পারেননি ৮৫ বছর বয়সী ঢাবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত এই শিক্ষক।
আদালতে তিনি বলেন, আমার দুই ছেলের মধ্যে অভিজিৎ ছিল বড়। সে খুবই মেধাবী ছিল। সে বুয়েটের মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগ থেকে পাস করে। পরে সিঙ্গাপুরে পিএইচডি করে। অভিজিৎ এর স্ত্রী যখন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পায় তখন সেখানে কিছুদিন ছিল সে। অজয় রায় বলেন, অভিজিৎকে মারার সময় তার স্ত্রী রাফিদা আহমেদ বন্যা বাঁচানোর চেষ্টা করে। এ সময় সন্ত্রাসীরা তাকেও আঘাত করে। এতে তার স্ত্রীর ডান হাতের বৃদ্ধাঙ্গুলি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। সে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও পরে স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আমার ছেলে ধর্ম বা রাষ্ট্রবিরোধী কোনো লেখালেখি করেনি। সে বিজ্ঞান বিষয়ে লেখালেখি করতো। সাক্ষ্যপ্রদানের পর প্রথমে আসামি আবু সিদ্দিক সোহেলের পক্ষে তার আইনজীবী এবিএম খায়রুল ইসলাম লিটন অজয় রায়কে জেরা করেন। এরপর আরাফাত রহমান সিয়ামের পক্ষে তার আইনজীবী মো. জায়েদুর রহমান এবং মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক ও আকরাম হোসেনের পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী মোহাম্মদ জাকির হোসেনও তাকে জেরা করেন। কোনো আইনজীবী না থাকায় আসামি শফিউর রহমান ফারাবী নিজেই বাদীকে জেরা করেন। এরপর সাক্ষী মসুদুর রহমান আদালতে সাক্ষ্য দেন।