News71.com
 Bangladesh
 19 Oct 19, 07:45 PM
 108           
 0
 19 Oct 19, 07:45 PM

ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি ভর্তি নিচ্ছে তিতুমীর কলেজ ।।

ধারণক্ষমতার চেয়েও বেশি ভর্তি নিচ্ছে তিতুমীর কলেজ ।।

নিউজ ডেস্কঃ রাজধানীর মহাখালী এলাকায় অবস্থিত সরকারি তিতুমীর কলেজ। শিক্ষার্থী সংখ্যার অনুপাতে এশিয়া মহাদেশের মধ্যে ১ম এটি। কলেজে বর্তমান শিক্ষার্থীর সংখ্যা প্রায় ৫৮ হাজার। কিন্তু এত শিক্ষার্থীর জন্য কলেজে নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক,পর্যাপ্ত ক্লাসরুম। তবুও কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর আশরাফ হোসেনের তথ্য মনে ২০১৯-২০ সেশনে মোট ভর্তি নিচ্ছেন প্রায় ৬ হাজার শিক্ষার্থী। কিন্তু প্রতিটি বিভাগেই স্নাতক ও স্নাতকোত্তরে বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী ভর্তি করানোর ফলে শ্রেণিকক্ষে পড়াশোনা তেমন হচ্ছে না। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে অনেক সময় শিক্ষার্থীরাই ক্লাসে আসছেন না। কলেজটিতে ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত শিক্ষক আছেন ২১২ জন। সংখ্যায় অন্যান্য সরকারি কলেজের তুলনায় এখানে শিক্ষক ‘যথেষ্ট’ থাকলেও শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত এখনো ১: ২৭৩। অথচ সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে গড়ে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর অনুপাত ১: ২১। এছাড়াও কলেজে ২২টি বিষয়ে স্নাতক (সম্মান) ও স্নাতকোত্তর পড়ানো হয়। কিন্তু এই ২২ টি ডিপার্টমেন্টের ৫৮ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য কলেজে শ্রেণিকক্ষ আছে মাত্র ৪২টি। তিন বছর আগে কলেজটির হিসাববিজ্ঞান বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ভর্তি করা হতো পৌনে পাঁচ শ শিক্ষার্থী। গতবার ২০১৮-১৯ সেশনে প্রথম বর্ষে ভর্তি করা হয়েছে ৬৪০ জন। তখন বিভাগের নিজস্ব শ্রেণিকক্ষ ছিল দুটি। এখনো তাই আছে। শিক্ষকদের দাবী শিক্ষার্থী বাড়লেও বাড়েনি শ্রেণি কক্ষ। ৪৫ মিনিটের ক্লাসে কলেজের অনেক ডিপার্টমেন্টে তিন শতাধিক শিক্ষার্থী উপস্থিত থাকলে সেই ক্লাসটি কতটা কার্যকর হয় এই প্রশ্ন শিক্ষক–শিক্ষার্থী অনেকেরই।

কয়েকটি বিভাগের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে থাকার সময় কলেজে ক্লাস খুবই কম হতো। ২০১৭ সালে কলেজটি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আসার পর পরীক্ষা দিতে ক্লাসের উপস্থিতি থাকতেই হবে—এমন কড়াকড়ি করা হয়। এখন তুলনামূলকভাবে ক্লাস বেশি হচ্ছে ও উপস্থিতিও বেড়েছে। এ জন্য স্নাতক (সম্মান) প্রথম ও দ্বিতীয় বর্ষের ক্লাসে বেশির ভাগ সময়ই জায়গা হয় না। কারণ, এই দুটি বর্ষে বেশি উপস্থিতি থাকে। এতে করে অনেক সময় শ্রেণিকক্ষে শিক্ষার্থী জায়গা দেয়া সম্ভব হয়ে উঠে না। ফলে শিক্ষার্থীদের মনযোগ থাকে না। পর্যাপ্ত ক্লাসরুম না থাকায় ১ বর্ষের কলা বিভাগের অনেক ক্লাস বিজ্ঞান ভবনে নিতে হয়। আবার অনেক সময় যখন পরিক্ষা থাকে তখন অন্য বর্ষের শিক্ষার্থীদের ক্লাস করানোর মত রুম না থাকায় শ্রেণি কার্যক্রম স্থগিত করতে হয়। এতে করে তাদের লেখাপড়া অনেকটা ব্যহত হয়। বাংলা বিভাগের একজন শিক্ষক বলেন, তাদের বিভাগে স্নাতক (সম্মান) প্রথম বর্ষে ৩৩০ জনের মতো শিক্ষার্থী ভর্তি করা হয়। শাখা নেই। একটি মাত্র শ্রেণিকক্ষ বিভাগের নামে বরাদ্দ। এটিতে তিন শতাধিক শিক্ষার্থীর বসার মতো জায়গাও নেই। আরেকটি শ্রেণিকক্ষ দুই বিভাগ মিলে ব্যবহার করে। কলেজের অধ্যক্ষ মো. আশরাফ হোসেন বলেন, শিক্ষা কার্যক্রমের জন্য এখন ১০ তলাবিশিষ্ট দুটি ভবন হচ্ছে। এরইমধ্যে ১০ তলা ভবনের ৪ তলা পর্যন্ত কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এগুলো হলে শ্রেণিকক্ষের সংকট অনেকটাই কেটে যাবে। এ ছাড়া ১০ তলা করে ছাত্রদের জন্য একটি ও ছাত্রীদের জন্য নতুন একটি হল নির্মাণের কাজও চলছে। আগামী বছরের মধ্যে সব কাজ সম্পন্ন হবে বলে আমরা আশা করি।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন