
জাবি প্রতিনিধি: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলপ্রধান নৃবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক রাশেদা আখতারের বিরুদ্ধে ‘পক্ষপাতদুষ্ট ও নিপীড়ককে সহযোগিতার’ অভিযোগ উঠেছে। আর এ অভিযোগ তুলে তার পদত্যাগ ও শাস্তি দাবি করেছেন ভুক্তোভাগী এক শিক্ষার্থী। সম্প্রতি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলামের কাছে লেখা এক অভিযোগপত্রে উক্ত শিক্ষার্থী অধ্যাপক রাশেদা আখতারের শাস্তি ও পদত্যাগ দাবি করেন। ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীর লিখিত অভিযোগপত্র থেকে জানা যায়, গত বছরের জুলাই মাসে বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচজন ছাত্র অশালীন গালাগালি ও ধর্ষণের হুমকি দেয় ওই শিক্ষার্থীকে। একই মাসের ১৫ তারিখে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে সেই পাঁচজন ছাত্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ দেন ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী। তার পরিপ্রেক্ষিতে ১৯ জুলাই অধ্যাপক রাশেদা আখতারের নেতৃত্বে গঠিত সেলে ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থীর বক্তব্য ও প্রমাণ স্বশরীরে উপস্থাপন করতে বলা হয়। কিন্তু এ সময় অধ্যাপক রাশেদা আখতার শিক্ষার্থীর সঙ্গে ‘সহযোগিতামূলক’ আচরণ না করে ‘নিপীড়নমূলক’ আচরণ করেন।
পরবর্তীতে যৌন হয়রানির সকল বক্তব্য ও প্রমাণ উপস্থাপনের জন্য আবারো সুযোগ চেয়ে ও তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীর শাস্তির দাবি জানিয়ে গত বছরের ১৩ আগস্ট অধ্যাপক রাশেদা আখতারের কাছে পুনরায় একটি চিঠি লিখেন ভুক্তোভোগী ওই শিক্ষার্থী। তবে বারবার ঘটনার সুষ্ঠু বিচারের দাবি জানানোর পরেও রাশেদা আখতার ‘ধর্ষণের হুমকির’ মতো গুরুতর ঘটনার কোনো তদন্ত করেননি বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগপত্রে ভুক্তোভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘গত ১১ মার্চ বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগে আয়োজিত এক সেমিনারে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের উপস্থিতিতে যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের ‘তিক্ত’ অভিজ্ঞতা সকলের সামনে তুলে ধরি। বক্তব্য শেষ হলে রাশেদা আখতার আমার বিরুদ্ধে নানা ধরনের ‘বিষোদগারমূলক’ তথ্য পরিবেশন করেন। ফলে আমি তার কাছ থেকে ন্যায় বিচার পাওয়ার আশা হারিয়ে ফেলি।’
এদিকে গত ১৯ সেপ্টেম্বর সরকার ও রাজনীতি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক সানোয়ার সিরাজের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ এনে বিভাগের সভাপতির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন একই শিক্ষার্থী। যা গত ২৫ সেপ্টেম্বর বিশ্ববিদ্যালয়ের যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলে পাঠান বিভাগীয় সভাপতি। পূর্বের যৌন হয়রানি ও ধর্ষণের হুমকির ঘটনা তদন্ত না করে উল্টো ‘নিপীড়ন’ করার অভিযোগ এনে অধ্যাপক রাশেদা আখতারের প্রতি ‘অনাস্থা’ জানিয়েছেন ভুক্তোভোগী ওই শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শিক্ষক সানোয়ার সিরাজকে ইতোমধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সাময়িক অব্যাহতি দিয়েছে। জাবি’র যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেল নিপীড়নমূলক উল্লেখ করে তা পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন জাবি সংসদ। গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই দাবি জানান তারা।
গনমাধ্যমে পাঠানো ছাত্র ইউনিয়নের ঐ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন নিপীড়নের অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, বিচার ও নারীর জন্য নিরাপদ কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করতে গঠিত যৌন নিপীড়ন বিরোধী সেলের বিরুদ্ধে তদন্তের অংশ হিসেবে জিজ্ঞাসাবাদের নামে অভিযোগকারীকেই হেনস্তা করা এবং অসহযোগিতা করার ঘটনাসহ বিস্তর অভিযোগ সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। ফলে এই সেলটি দীর্ঘদিন ধরে নিজেই নিপীড়নমূলক ও নিপীড়কের পক্ষপাতদুষ্ট সেল হিসেবে কাজ করে আসছে।’ অভিযোগের বিষয়ে জানতে অধ্যাপক রাশেদা আখতার এর সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি। এ ব্যাপারে উপাচার্য অধ্যাপক ফারজানা ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ‘যৌন নিপীড়ন সেলপ্রধানের অপসারণ দাবি করে লেখা একটা চিঠি পেয়েছি। অপসারণ করতে যথেষ্ট প্রমাণ দরকার। আমরা আরও তথ্য প্রমাণ চেয়েছি, তথ্য প্রমাণ পেলে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে।’