
নিউজ ডেস্কঃ ছাত্রলীগ নেতাদের নির্যাতনে আবরার ফাহাদ হত্যাকাণ্ডের জেরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ক্যাম্পাসে সাংগঠনিক ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধ ঘোষণা হয় শুক্রবার (১১ অক্টোবর)। শিক্ষার্থীদের দাবির মুখে উপাচার্য অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম এই ঘোষণা দেওয়ার পর ক্যাম্পাসের পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে। রবিবার (১৩ অক্টোবর) সরেজমিনে দেখা যায়, বুয়েট ক্যাম্পাসে এখন কোনও রাজনৈতিক সংগঠনের ব্যানার, ফেস্টুন, দেয়াল লিখন নেই। এসব সরিয়ে ফেলেছে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। বুয়েট ক্যাফেটেরিয়ার ভেতরের একটি কর্নারের নামও পরিবর্তন করা হয়েছে, যা আগে শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ছাত্রলীগ কর্নার’ নামে পরিচিত ছিল। শিক্ষার্থীরা স্থানটির নাম পরিবর্তন করে সাদা রঙ দিয়ে লিখেছেন ‘মুক্তি কর্নার’। শিক্ষার্থীরা জানান, আগে ক্যাফেটেরিয়ার ওই স্থানে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীদের আড্ডা ছিল। তাই সেটি সবার কাছে ‘ছাত্রলীগ কর্নার’ নামে পরিচিত ছিল। এখন ক্যাম্পাসে ছাত্র রাজনীতি নিষিদ্ধের কারণে তারা ওই স্থানের নাম পরিবর্তন করেছেন। ক্যাফেটেরিয়ার ওই স্থানের ওপরের দেয়ালে লেখা ছিল ‘যতদিন রবে পদ্মা মেঘনা গৌরি যমুনা বহমান, ততো দিন রবে কীর্তি তোমার শেখ মুজিবুর রহমান’। এই লেখার পাশে সৌজন্যে ছাত্রলীগের নাম লেখা ছিল। আন্দোলনকারী সেখান থেকে সাদা রঙ দিয়ে ছাত্রলীগের নাম মুছে দিয়েছে।
এদিকে, আবরারসহ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতনের চিত্র দেয়ালে অঙ্কন করেছে শিক্ষার্থীরা। বুয়েটের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণসহ ক্যাম্পাসে শুধু আবরার হত্যার বিচারের দাবিতে প্রতিবাদী লেখা, গ্রাফিতি আর ব্যানার দেখা যাচ্ছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন শিক্ষার্থী জানান, ‘ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা আবরারকে যেভাবে পিটিয়ে হত্যা করেছে, সেই চিত্র এখন দেয়ালগুলোতে আঁকা হচ্ছে। আবরারকে আমরা সারা জীবন স্মরণ করবো।’ আন্দোলনকারীদের অনেকে বলছেন, ‘সোম-মঙ্গলবার বুয়েটের ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। ওই দুই দিন হাজারও ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকরাও ক্যাম্পাসে আসবেন। আগত সবাই দেয়াল লিখন এবং গ্রাফিতি দেখে আবরারকে পিটিয়ে মারার ঘটনা উপলব্ধি করতে পারবেন।’