
নিউজ ডেস্কঃ মাদারীপুর জেলার শিবচর উপজেলার পদ্মাবেষ্টিত এক জনপদের নাম মাগুরখণ্ড। এ মাগুরখণ্ড মৌজার তিনটি গ্রাম। আইন উদ্দিন হাওলাদারের কান্দি, মুন্সী আব্দুল আজিজ ফকিরেরকান্দি ও হাজী মনসুর খাঁর কান্দি। বহু বছর আগে পদ্মার বুকে জেগে ওঠা মাগুরখণ্ড এলাকাটি আবার পদ্মার বুকেই বিলীন হয়ে গেছে। ইউনিয়নের মানচিত্র থেকে এ বছর প্রায় পুরোপুরিভাবেই হারিয়ে গেছে গ্রাম তিনটি। পদ্মার তীব্র স্রোত এখন বয়ে যাচ্ছে হারিয়ে যাওয়া মাগুরখণ্ডের বুকের ওপর দিয়ে। সাক্ষী হিসেবে কয়েকটি গাছ ও সামান্য একটু ভূমি থাকলেও নেই কোনো বসতি। এ বছর ভিটেমাটি হারিয়ে কয়েকশ’ পরিবার এসে আশ্রয় নিয়েছে কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মূল ভূ-খণ্ডে। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মাগুরখণ্ড এলাকায় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, একটি মাদ্রাসা, একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র, হাট-বাজার, সড়কসহ প্রায় ৭৫০টি পরিবারের বসবাস ছিল।
চলতি বছর বর্ষার প্রথম দিকে ভাঙন শুরু হয়ে দ্বিতীয় দফার ভাঙনে পুরো গ্রামটিই বিলীন হয়ে যায়। বর্তমানে ভিটেমাটি হারিয়ে ওই পরিবারগুলো কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের মূল ভূ-খণ্ডে, কাওড়াকান্দি ঘাট সংলগ্ন এলাকা ও মুন্সিগঞ্জের বিক্রমপুরসহ বিভিন্ন এলাকায় আশ্রয় নিয়েছে। তবে এদের সবাই অন্যের জমিতে সাময়িক সময়ের জন্য ভাড়া নিয়ে বসবাস শুরু করেছেন। কাঁঠালবাড়ী ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মো. মাহাবুব ফকির বলেন, মাগুরখণ্ড এলাকাটি ১ নম্বর ওয়ার্ডের। যার পুরোটাই এখন পদ্মার গর্ভে। আমার ভিটেমাটিও নদীর গর্ভে বিলীন হয়েছে এবার। কোথায় যাবে এই এলাকার বাসিন্দারা তার কোনো ঠিক ঠিকানা নাই। তবে আমাদের দাবি সরকারিভাবে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করে দিলে অন্তত মাথা গোঁজার ঠাঁই পাবে এই এলাকার মানুষ।