
নিউজ ডেস্কঃ যুক্তরাজ্যে করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত ধরনকে এখন পর্যন্ত ভাইরাসের সাধারণ মিউটেশন বা রূপান্তর হিসেবেই দেখছেন বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা। সর্বশেষ গত নভেম্বরের প্রথম সপ্তাহে বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদের (বিসিএসআইআর) বিজ্ঞানীরা করোনাভাইরাসের যে নতুন মিউটেশন পেয়েছেন, তার সঙ্গে যুক্তরাজ্যে পাওয়া মিউটেশনের একটা জায়গায় মিল পাওয়া গেছে। দেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, একই ধরন আমাদের সাত দিন পর যুক্তরাজ্য পেয়েছে। তাদের মতো আমাদের এখানেও মিউটেশনের ডিভিশন পাওয়া গেছে। তবে এই পরিবর্তনে দেশে ঠিক কী হারে রোগটা ছড়াচ্ছে, পরীক্ষা শেষ না হওয়ায় সেটা জানা যায়নি।
বাংলাদেশের বিজ্ঞানীরা বলছেন, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে করোনাভাইরাসের যত পরিবর্তন ধরা পড়েছে, তার সবই প্রায় একই ধরনের। এসব পরিবর্তনে সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুহার সেই অনুপাতে বাড়ে না। যুক্তরাজ্যেও যে পরিবর্তন, তাতেও সংক্রমণ বাড়লেও মৃত্যুহার বাড়েনি।
এমনকি বিজ্ঞানীরা যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত ধরনের ব্যাপারে নিশ্চিত হতে আরও গবেষণা দরকার বলেও মনে করেন। তাদের মতে, এই পরিবর্তনের কারণে করোনার যেসব টিকা উৎপাদন হচ্ছে, তাতে কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়বে না এবং সেগুলো পরিবর্তনেরও কোনো দরকার নেই। যদিও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) গত সোমবার বলেছে, যুক্তরাজ্যে শনাক্ত হওয়া করোনাভাইরাসের নতুন ধরন এখনো নিয়ন্ত্রণের বাইরে যায়নি। বিদ্যমান ব্যবস্থা প্রয়োগ করেই করোনার এই নতুন ধরনকে নিয়ন্ত্রণে রাখা যেতে পারে। তবে যুক্তরাজ্যের করোনাভাইরাসের পরিবর্তিত ধরন নিয়ে ইতিমধ্যেই বিশ্বে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ব্রিটেনের প্রায় অর্ধশতাধিক স্থানে করোনাভাইরাসের নতুন এই স্ট্রেইনের খোঁজ মিলেছে। বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণের পর যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞরা ধারণা করছেন, এবার ছড়িয়ে পড়ার হার আগের তুলনায় ৭০ শতাংশ কিংবা তার চেয়েও বেশি। এই নতুন ধরনের ভাইরাস প্রতিরোধে ব্রিটেনের বিভিন্ন অংশে নতুন করে বিধিনিষেধ আরোপ করে লোকজনকে ঘরে থাকার নির্দেশ জারি করেছেন প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। লন্ডন ও দক্ষিণপূর্ব ইংল্যান্ডে নতুন ধরনের এই ভাইরাসের দাপট লক্ষ করা গেছে। লন্ডনের ৬২ শতাংশ সংক্রমণই নতুন ধরনের।