News71.com
 Bangladesh
 18 May 20, 07:20 PM
 1009           
 0
 18 May 20, 07:20 PM

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সাইক্লোন আমপান॥ বুধবার প্রবল বেগে আছড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ উপকুলে

ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে সাইক্লোন আমপান॥ বুধবার প্রবল বেগে আছড়ে পড়তে পারে বাংলাদেশ উপকুলে

নিউজ ডেস্কঃ সময়ের সাথে সাথে শক্তিশালী থেকে অতি শক্তিশালী হচ্ছে বেশকিছুদিন ধরে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় আমপান। বুধবার নাগাদ তা প্রলয়ঙ্কারি ভয়ঙ্কর রূপে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দিঘা থেকে বাংলাদেশের হাতিয়া দ্বীপের মধ্যবর্তী কোনও এলাকায় আমপান আছড়ে পড়তে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমপানের শক্তি কয়েকগুণ বাড়বে। আবহাওয়া বিজ্ঞানীরা জানাচ্ছেন, আমপান ‘সুপার সাইক্লোন স্টর্ম’-এর চেহারা নেবে। এই অতি শক্তিশালী ঘূ্র্ণিঝড়ের ঘূর্ণনের গতিবেগ হতে পারে সর্বোচ্চ ২২০ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা। আমপানের ঝাপটায় সব থেকে বেশি ক্ষতক্ষতির সম্ভাবনা রয়েছে, ভারতের দিঘা, মন্দারমনি, সুন্দরবনের সমুদ্র সৈকত এবং বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর,নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ উপকূলবর্তী এলাকায়।

সুপার সাইক্লোনে রূপ নেয়া এই দানবীয় ঝড়ের তাণ্ডবে উপকুলে জলোচ্চাসের পাশাপাশি কাঁচা ও কাঁচা-পাকা বাড়ি ভেঙে পড়তে পারে। অনেক গাছ, বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে যাওয়ার সম্ভবনা রয়েছে। প্রাণহানির ঘটনা যাতে না ঘটে, তার আগাম সতর্কতা হিসেবে উপকূলের বাসিন্দাদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের রাজ্য প্রশাসন গোটা পরিস্থিতির উপরে নজর রেখেছে। উপকূলবর্তী এলাকাগুলিতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে।আর বাংলাদেশের পুরো উপকুল জুড়েই সতর্কতা জারি করা হয়েছে এবং মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নিতে সামন্ত আশ্রয়কেন্দ্র গুলো তৈরী রাখা হয়েছে। যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশেই মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে আনা যায়। ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হতে পারে কৃষি ও মৎস্য সেক্টরেও। করোনা আবহের মধ্যে এই দুর্যোগ পরিস্থিতি মোকাবিলায় মধ্যে ‘সোশ্যাল ডিস্ট্যান্সিং’-এর বিষয়টি মাথায় রেখে সমস্ত ব্যবস্থা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন উপকুলের সংশ্লিষ্ট জেলাশাসকরা।

ভারতের আলিপুর আবহাওয়া দফতরের দেওয়া সর্বশেষ খবরে বলা হয়েছে বর্তমানে পশ্চিম-মধ্য বঙ্গোপসাগরের উপরে অবস্থান করছে সাইক্লোন আমপান। এর অভিমুখ রয়েছে উত্তর দিকে। কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই বাঁক নিয়ে তা উত্তর-পূর্ব দিকে এগোতে শুরু করবে। এখন আমপান উড়িষ্যা রাজ্যের পারাদ্বীপ থেকে ৭৮০ কিলোমিটার দূরে রয়েছে। দিঘা থেকে এর দূরত্ব ৯৩০ কিলোমিটার, বাংলাদেশের খেপুপাড়া থাকে ১০৫০ কিমি। বুধবার দুপুরে প্রায় ১৫৫ থেকে ১৬৫ কিলোমিটার প্রতি ঘণ্টা ঘূর্ণনের গতিবেগে আছড়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এমনকি, এর ঘূর্ণনের গতি উঠতে পারে ১৮৫ কিলোমিটারের আশপাশে। এমন গতিতে যদি এ রাজ্যের উপরে স্থলভাগে আছড়ে পড়ে আমপান, তা হলে ভয়ঙ্কর ভাবে ক্ষতির সম্ভাবনাও থাকছে। আমপানের প্রভাবে কলকাতা, দুই মেদিনীপুর, দুই ২৪ পরগনা, হুগলি, নদিয়াতে প্রবল বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে মঙ্গল এবং বুধবার। কলকাতাতেও ঝড়ের ঝাপটা পড়তে পারে। সে জন্য কলকাতা পুরসভাও সমস্ত রকমের ব্যবস্থা নিতে শুরু করেছে। সতর্ক করা হয়েছে পুর কর্মীদের। সচেতনতা বাড়াতে দিঘা, সুন্দরবনে মাইকিং করা হচ্ছে। ইতিমধ্যেই টহল দিতে শুরু করেছে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী।

এদিকে সময়ের সাথে পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশ উপকুলের দিকে দ্রুত এগিয়ে আসছে। এতে সাগর প্রবল বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠায় বাংলাদেশের পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ৭ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার ও চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলেছে বাংলাদেশের আবহাওয়া অফিস।আজ আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ স্বাক্ষরিত বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে এ বিপদ সংকেত দুটো দেখাতে বলা হয়েছে। এই সতর্ক বার্তায় বলা হয়েছে- দক্ষিণপূর্ব বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণপশ্চিম বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থানরত অতি প্রবল ঘূর্ণিঝড় ‘আম্পান’ উত্তর দিকে অগ্রসর ও ঘণীভূত হয়ে বর্তমানে পশ্চিম মধ্যবঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর এলাকায় অবস্থান করছে। এটি আজ সোমবার (১৮ মে) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজারর ৭৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, কক্সবাজার সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ৯৮৫ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্র বন্দর থেকে ৯৭০ কিমি দক্ষিণ-দক্ষিণপশ্চিমে অবস্থান করছিল।এটি আরও ঘণীভূত হয়ে উত্তর দিকে অগ্রসর হতে পারে। পরবর্তীতে দিক পরিবর্তন করে উত্তর-উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে খুলনা ও চট্টগ্রামের মধ্যবর্তী অঞ্চল দিয়ে মঙ্গলবার শেষরাত থেকে বুধবার বিকাল/সন্ধ্যার মধ্যে বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৮৫ কিমির মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ২১০ কিমি, যা দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ২২০ কিমি পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের নিকটে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে। এই অবস্থায় মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০৭ (সাত) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়াও বাংলাদেশের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহ ৭ নম্বর বিপদ সংকেতের আওতায় থাকবে।এছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ০৪ (চার) নম্বর স্থানীয় হুঁশিয়ারি সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে ০৬ (ছয়) নম্বর বিপদ সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।ঘূর্ণিঝড় এবং অমাবস্যার প্রভাবে উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলার নিন্মান্চল এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহের নিম্নাঞ্চল স্বাভাবিক জোয়ারের চেয়ে ৪-৫ ফুট অধিক উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে।

ঘূর্ণিঝড় বাংলাদেশ উপকুল অতিক্রমকালে সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, ঝালকাঠি, পিরোজপুর, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলা, বরিশাল, লক্ষ্মীপুর, চাঁদপুর, নোয়াখালী, ফেনী, চট্টগ্রাম জেলা সমূহ এবং তাদের অদূরবর্তী দ্বীপ ও চরসমূহে ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণসহ ঘণ্টায় ১৪০-১৬০ কিমি বেগে দমকা অথবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে। উপকুলের অনেক স্থানের বন্যা নিয়ন্ত্রন বাধ ভেঙ্গে প্লাবিত হতে পারে নিন্মান্চল। বর্তমানে নিন্মচাপ ও আমবশ্যা একই সাথে থাকায় সাগর অনেক বেশী বিক্ষুব্ধ। তাই উপকুল, উত্তর বঙ্গোপসাগর ও গভীর সাগরে অবস্থানরত সকল মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে অতিসত্ত্বর নিরাপদ আশ্রয়ে ফিরে আসতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এবং বলা হয়েছে এবং পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত নিরাপদ আশ্রয়ে থাকতে ।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন