
নিউজ ডেস্কঃ প্রত্যেকটা ঘটনারই ভাল মন্দ দুটি দিকই থাকে । নিবিড় ভাবে পর্যবেক্ষণ করলে বিশ্বে ঘটে যাওয়া প্রতিটি ঘটনা বা দূর্ঘটনায় সবসময়ই এর প্রমান মিলেছে। যদিও এই মতবাদটি নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে। বিশ্বের বর্তমান সময়ের মহামারিখ্যাত করোনারও এমন কিছু কিছু দিক সামনে আসতে শুরু করেছে। যা নিয়ে পরিবেশবিদরা বলছেন কিছু কিছু ক্ষেত্রে করোনা আশীর্বাদ রূপে প্রকাশিত হচ্ছে। মানবজাতীর জন্য মারাত্মক হুমকি হয়ে ওঠা পৃথিবীর ওজন স্তরের ছিদ্র সেরে উঠে আবার স্বাভাবিক হয়ে ওঠা এর উপযুক্ত উদাহরণও বটে। আর এই মহামারিতে আমাদের দেশেরও প্রাকৃতি ও পরিবেশের দৃশ্যমান পরিবর্তন লক্ষ করছেন বাংলাদেশের পরিবেশবিদ ও বিশেষজ্ঞরা। তারা শুনাচ্ছেন আমাদের নদী ও বায়ুদূষন কমে যাওয়ার প্রভাবে পরিবেশের পরিবর্তিত অনেক সূ-খবর।
সরেজমিন তদন্তে জানাগেছে লকডাউনের প্রভাবে ঢাকায় সব ধরনের শিল্পকারখানা বন্ধ থাকায় বুড়িগঙ্গা নদীর দূষণ অনেকটাই কমে এসেছে। যান চলাচল বন্ধ, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় বায়ুদূষণও অনেকটা সহনীয় পর্যায়ে। অবৈধ দখল আর দূষণে বিপর্যস্ত বুড়িগঙ্গা নদীতে প্রতিদিন ঢাকার পাঁচ হাজার টন বর্জ্য ফেলা হয়। নদীকে কেন্দ্র করে যে শিল্পকারখানা গড়ে উঠেছে, সেগুলোর বিষাক্ত বর্জ্য এসেও পড়ে নদীতে। সেই সাথে জাহাজের ফার্নেস ও পোড়া কালো তেলে প্রতিদিনই দূষণ বাড়ে এ নদীর। তবে করোনা মহামারির কারণে দুই মাস মাস ধরে সব কল-কারখানা বন্ধ থাকায় বুড়িগঙ্গার দূষণ অনেকটাই কমে এসেছে। সেই সাথে দূষিত কালচে পানি এখন অনেকটাই স্বচ্ছ। আর নদীতে কিছুক্ষন সময় পর পর দেখা যাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির মাছ।নদী ও খাল রক্ষা আন্দোলন সাধারণ সম্পাদক আলিউর রহমান জানিয়েছেন এই খুশীর খবর।
অন্যদিকে করোনার কারণে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে আমাদের প্রকৃতিতে। সেই সাথে পরিবহন চলাচল, রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িসহ বিভিন্ন ধরনের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড বন্ধ থাকায় রাজধানী ঢাকার বাতাসে বিষাক্ত ধূলিকণার পরিমাণ কমেছে।রসায়নবিদ ড. ইদ্রিস আলী বলেন, ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে প্রকৃতিতে। ভাসমান কণাগুলো এসপিএম ১০ এবং এসপিএম ২.৫। এসপিএম ২.৫ অত্যন্ত ক্ষতিকর একটা কণা। যেটা মানুষের শ্বাসকষ্টের জন্য খুব ভয়াবহ। সেটিও এখন কমে গেছে। এ মহামারি থেকে শিক্ষা নিয়ে করোনা পরবর্তী পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজানোর প্রতি গুরুত্বারোপ করলেন পরিবেশবিদ ড. মনজুরুল কিবরিয়া। তিনি বলেন, মহামারি থেকে শিক্ষা নিয়ে যদি পৃথিবীকে নতুনভাবে সাজানো না হয় তাহলে এক সময় মানবসভ্যতাও বিলীন হয়ে যেতে পারে।দূষণের কারণে গত ২০ থেকে ২৫ বছরে বুড়িগঙ্গা নদী থেকে ৩৫ প্রজাতির মাছ বিলুপ্ত হয়ে গেছে বলে মনে করেন নদী গবেষকরা।করোনা মহামারির এ সময় দূষণ কমায় প্রকৃতি তার আপন রূপে সাজতে শুরু করেছে। করোনা মহামারি এক সময় থেমে গিয়ে সব স্বাভাবিক হয়ে যাবে। তবে পরিবেশের দূষণ মাত্রাতিরিক্ত কমাতে হলে সবাইকে সচেতন না হওয়া ছাড়া কোনো বিকল্প নেই বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।