
নিউজ ডেস্কঃ রপ্তানিমুখী পোশাকশিল্পের ৯৬ জন শ্রমিক করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন। এ ছাড়া একজন কর্মকর্তাও ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন। করোনায় আক্রান্তদের ৮০ শতাংশ শ্রমিকই ঢাকা বা তার আশপাশের শিল্প এলাকায় কর্মরত। আক্রান্ত পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে ৫৩ শতাংশ পুরুষ ও ৪৭ শতাংশ নারী। তা ছাড়া আক্রান্তদের ৫০ শতাংশের বয়স ২৫-৩৫ বছর। ৪০ শতাংশের বয়স ১৮ থেকে ২৫ বছর। আর ১০ শতাংশের বয়স ৩৫ বছরের ওপরে। গত ২৬ এপ্রিল পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার পর ভাইরাসটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫২ শতাংশ শ্রমিক। তার মানে, কারখানা চালুর পর তুলনামূলক কম দিনে বেশিসংখ্যক পোশাকশ্রমিক আক্রান্তের খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশ গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির এক গবেষণায় বিষয়টি উঠে এসেছে। গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে গবেষণার ফলাফল তুলে ধরেন সংগঠনটির সভাপ্রধান তাসলিমা আক্তার। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক জুলহাসনাইন বাবু, সাংগঠনিক সম্পাদক আমিনুল ইসলাম ও অর্থ সম্পাদক প্রবীর সাহা।
গবেষণা প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশের ২৪টি জেলায় পোশাকশ্রমিকদের করোনায় আক্রান্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তার মানে, আক্রান্ত শ্রমিকদের মাধ্যমে জেলাগুলোতেও করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে। গণমাধ্যমে পোশাক শ্রমিক আক্রান্ত হওয়ার খবর যতটা আসছে, তাঁদের চিকিৎসা এবং সুস্থ হওয়ার তথ্য আসছে না। এখন পর্যন্ত গণমাধ্যমে মাত্র দুইজন শ্রমিক সুস্থ হওয়ার খবর মিলেছে। গবেষণার ফলাফল প্রকাশের পাশাপাশি সাত দফা দাবি তুলে ধরেন তাসলিমা আক্তার। তিনি বলেন, লকডাউন কার্যকর না হওয়া ও কারখানা খুলে দেওয়ায় পোশাক শ্রমিক ও দেশবাসী বিরাট স্বাস্থ্যঝুঁকির মধ্যে পড়েছে। এ অবস্থায় কারখানা চালু রাখার সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা দরকার। সাভার, আশুলিয়াসহ অন্যান্য এলাকার আক্রান্ত কারখানাগুলো লকডাউন করে জীবাণুমুক্ত করতে হবে। এ ছাড়া সব নাগরিকের জন্য সাধারণ ছুটি ঘোষণা, আক্রান্ত পোশাক শ্রমিকদের সুনির্দিষ্ট হাসপাতালে বিনা মূল্যে চিকিৎসা, বর্তমান দুর্যোগে কারখানা লে-অফ ও কোনো শ্রমিক ছাঁটাই না করা, শ্রমিকদের ৬০ শতাংশ নয়, শতভাগ মজুরি প্রদান করাসহ কয়েকটি দাবি করেন গার্মেন্ট শ্রমিক সংহতির নেতারা।