
নিউজ ডেস্কঃ লকডাউন তুলে নেওয়া এখন সময়ের দাবী । চলমান মহামারি করোনার মধ্যেই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে লকডাউন তোলার দাবীতে সরব হচ্ছে জনগন। সরকারও দেশের ঝিমিয়ে পড়া অর্থ ব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে সীমিত পরিসরে লকডাউন শিথিল বা তুলে নেয়ার চেষ্টা করছে। এই পরিস্থিতিতে সার্বিক বিবেচনায় করোনা ভাইরাসের সাম্ভব্য সংক্রমনকে এডিয়ে জীবনযাত্রা স্বাবাবিক করতে স্বাস্থ্যবিধি মেনে সকলের জন্য আচরন বিধি ঠিক করতে কাজ করছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর । যাতে বড় ধরনের করোনা সংক্রমনের ঝুঁকি এড়িয়ে মানুষের জীবেনযাত্রা স্বাভাবিক ছন্দে ফিরিয়ে নেয়া যায়।
এই সময়ে লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে করোনা আক্রান্ত আর মৃতের সংখ্যা। তাই দেশে দেশে চলছে লকডাউন। যাতে সবচেয়ে বেশী বিপাকে পড়ছে খেটে খাওয়া মানুষ, ভেঙে পড়ছে গোটা বিশ্বের অর্থনৈতিক অবস্থা। তবুও বাধ্য হয়েই লকডাউনেই রাখতে হচ্ছে বিশ্বকে। কিন্ত মানুষের পক্ষে করোনার ভয়ে মাসের পর মাস এভাবে ঘরবন্দী থাকা সম্ভব নয়। কেননা টানা লকডাউনের ফলে বহু মানুষের জীবন দুর্বিষহ হয়ে উঠেছে।তাই যে দেশগুলোতে এখন লকডাউন চলছে, তাদের এ বন্দিদশা কাটানোর উপায় বাতলে দিল বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা। এই এই বিষয়গুলো নিশ্চিত হওয়া গেলে সীমিত পরিসরে লকডাউন তোলা যাবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা তার গাইড লাইনে বলছে, লকডাউন তুলতে হলে অন্তত ৬টি বিষয় মাথায় রাখতে হবে আক্রান্ত দেশগুলোকে-
১। সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।
২। স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পরিকাঠামো এমন জায়গায় পৌঁছে গেছে যে, সংক্রমণ হলেও আক্রান্তদের শনাক্ত করে তাদের পরীক্ষা, আইসোলেশন এবং চিকিৎসার ব্যবস্থা করা যাবে।
৩। হাসপাতাল বা নার্সিংহোমগুলোতে সংক্রমণ পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে।
৪। স্কুল, অফিসের মতো প্রয়োজনীয় জায়গায় করোনা প্রতিরোধ করার মতো পরিকাঠামো তৈরি হয়ে গেছে।
৫। কঠিন পরিস্থিতি তৈরি হলে তা সামাল দেয়ার জন্য প্রস্তুতি চূড়ান্ত।
৬। নতুন স্বাস্থ্য বিধি সম্পর্কে সকলে সচেতন এবং এর সঙ্গে মানিয়ে নিতে প্রস্তুত।
এই গাইডলাইন জারি করে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পক্ষে বলা হয়েছে, আমরা জানি এ ভাইরাস জনবহুল জায়গা থেকেই ছড়ায়। আবার আমরা এটাও জানি যে, শুরু থেকে রোগীকে শনাক্ত করে, পরীক্ষা করে আইসোলেট করতে পারলে এমনিই এ ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। তাই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া দেশ গুলোকে লকডাউন তুলে নেয়ার আগে উপরোক্ত শর্ত গুলোর বাস্তবায়ন ও প্রস্তুতি সম্পর্কে শতভাগ নিশ্চিত হতে পরামর্শ দেয়া হয়েছে। যাতে সাম্ভব্য ভাইরাস সংক্রমন এড়িয়ে নিরবিচ্ছিন্ন স্বাভাবিক জীবন ব্যবস্থা সচল রাখা যায়।