
নিউজ ডেস্কঃ করোনাভাইরাসের কারণে কারাগারগুলোতে চাপ কমাতে বন্দীদের মুক্তি দেওয়া শুরু করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। গতকাল শনিবার থেকে সারা দেশের কারাগারগুলো থেকে এই প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। কয়েকটি ধাপে মোট ২ হাজার ৮৮৪ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। গতকাল শনিবার ১৭০ জনকে মুক্তি দেওয়ার মধ্য দিয়ে প্রক্রিয়াটি শুরু হয়। আজ রবিবার আরও ৩৮৫ জনকে মুক্তি দেওয়া হবে। কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, যাঁদের মুক্তি দেওয়া হচ্ছে, তাঁরা সবাই লঘু দণ্ডে দণ্ডিত। সর্বোচ্চ এক বছর যাদের সাজা, তাঁরাই এই তালিকায় রয়েছেন। তালিকা করা বন্দীদের ছয় মাস থেকে এক বছর, তিন মাস থেকে ছয় মাস এবং শূন্য থেকে তিন মাস এই তিনটি ভাগে ভাগ করে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে। সারা দেশে ৬৮টি কারাগার রয়েছে। এসব করাগারের ধারণক্ষমতা ৪১ হাজার হলেও ৮৫ হাজারের বেশি বন্দী অবস্থান করছেন বলে কারা অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে।
কারা অধিদপ্তেরর অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক কর্নেল আবরার হোসেন বলেন, যাঁরা মুক্তি পাচ্ছেন, তাঁরা সবাই সাজা প্রাপ্ত। বিচার শেষে তাঁদের সাজা সর্বোচ্চ এক বছর পযর্ন্ত নির্ধারণ করা হয়েছিল। কেউ হয়তো এক মাস জেল খেটেছেন, কেউ হয়তো ৯ মাস। এ ক্ষেত্রে শিশু অপহরণ, ধর্ষণ বা হত্যার মতো গুরুতর অপরাধের অন্য কোনো মামলায় তাঁদের সংশ্লিষ্টতা থাকলে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না। আবরার হোসেন জানান, বিচারাধীন কোনো মামলার আসামিকে মুক্তি দেওয়া হচ্ছে না।
কারা মহাপরিদর্শক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এ কে এম মুস্তফা কামাল পাশা বলেন, কারাগারগুলোতে ধারণক্ষমতার চেয়ে অনেক বেশি বন্দী রয়েছেন। করোনার এই পরিস্থিতিতে চাপ কমাতে সরকারের নির্দেশেই এই মুক্তির প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। এই ২ হাজার ৮৮৪ জন মুক্তি পাওয়ার পর আর কাউকে মুক্তি দেওয়ার পরিকল্পনা আছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে কারা মহাপরিদর্শক বলেন, সরকার যেভাবে নির্দেশনা দেবে, তারা সেভাবেই কাজ করবেন।