News71.com
 Bangladesh
 02 May 20, 07:22 PM
 241           
 0
 02 May 20, 07:22 PM

আতঙ্কিত হবার কারন নেই, দেশে আগে থেকেই ‘অচেনা পোকার’ অস্তিত্ব ছিল॥ কৃষি বিভাগ

আতঙ্কিত হবার কারন নেই, দেশে আগে থেকেই ‘অচেনা পোকার’ অস্তিত্ব ছিল॥ কৃষি বিভাগ

নিউজ ডেস্কঃ কক্সবাজারের টেকনাফের স্থানীয় এক বাসিন্দার বসত ভিটায় দেখা দেয়া পোকাটি পঙ্গপাল নয়, এটি ঘাসফড়িংয়ের একটি প্রজাতি। এছাড়া আগে থেকেই বাংলাদেশে এ ধরনের পোকাটির অস্তিত্ব রয়েছে বলে দাবি করেছেন কৃষি মন্ত্রণালয়ের বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে গঠিত তদন্ত দলের সদস্যরা। শনিবার (২ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় টেকনাফ উপজেলার সদর ইউনিয়নের লম্বরী পাড়ায় ‘অচেনা পোকায়’ ক্ষতিগ্রস্ত বসত ভিটার গাছপালা ও আঙ্গিনা পরিদর্শন শেষে ঢাকা থেকে আসা তদন্ত দলের সদস্যরা সাংবাদিকদের কাছে এ তথ্য জানিয়েছেন।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউট, বঙ্গবন্ধু কৃষি গবেষণা কেন্দ্র এবং কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানীদের সমন্বয়ে ৪টি পৃথক প্রতিনিধি দল যৌথভাবে টেকনাফের ক্ষতিগ্রস্ত বসত ভিটাটি পরিদর্শন করে। এসব প্রতিনিধিদলে ১০ জন বিশেষজ্ঞ ও বিজ্ঞানী ছিলেন।তারা ক্ষতিগ্রস্ত ভিটাটি পরিদর্শন শেষে যৌথভাবে অভিমত দেন, টেকনাফে দেখা দেয়া ‘অচেনা পোকা’ পঙ্গপাল নয়। এটি সাধারণ ঘাসফড়িংয়ের একটি প্রজাতি। এছাড়া এটি অপ্রধান ক্ষতিকারক পোকা।বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউটের অধ্যক্ষও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নাজমুল বারী বলেন, টেকনাফে দেখা দেয়া পোকাটি পঙ্গপাল নয়। এটা ঘাসফড়িং, এটা বাংলাদেশেরই পোকা এবং আগে থেকেই আছে। পোকাটি ডিম দেয়। ডিম থেকেই বাচ্চা হয়, বাচ্চাটাকেই নিম বলা হয়। আর নিমটাই এখানে (টেকনাফে) দেখা দিয়েছে।

অনেকগুলো ‘নিম’ একসাথে থাকার কারণেই অনেকে এ পোকাগুলোকে ‘পঙ্গপাল’ বলে ভুল তথ্য দিয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ড. বারী।তিনি আরও বলেন, পোকাটি যখন বড় হবে এবং পাখা গজাবে, তখন এটির গায়ে ফোঁটা ফোঁটা দাগের দেখা মিলবে। এ জন্য পোকাটিকে ‘স্পটেড গ্রাস্ফোরও’ বলা হয়। এছাড়া এ পোকাটির একটা ডিফেন্স মেকানিজম রয়েছে যখন সে বড় হবে এবং অন্যান্য পোকা তাকে খেতে বা ক্ষতি করতে যায়, তখন সে তার মুখ দিয়ে এক ধরনের ফোম নিঃসরণ করে। সেই ফোমটা বিষাক্ত ফোম। বিষাক্ত ফোমের কারণে অন্যান্য পোকা বা শত্রুরা তার কাছে আসতে পারে না।পোকাটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘অলিয়ার্সেস মিলিয়ারিস’ এবং এটি ‘পাইগোডাপেমি’ গোত্রের একটি পতঙ্গ কীট বলে জানান ড. বারী।টেকনাফে দেখা দেয়া পোকাটি ‘বিধ্বংসী পোকা পঙ্গপাল’ নয় দাবি করে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের কীট তত্ত্ববিধ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. নির্মল কুমার দত্ত বলেন, কৃষি মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্তদলের সদস্যরা প্রাথমিকভাবে বিধ্বংসী পোকা পঙ্গপাল নয় শনাক্ত করেছে। এটি ঘাসফড়িং বা ঘাসফড়িংয়েরই একটি প্রজাতি। তিনি বলেন, এটি আসলে বনজ, ফলজ এবং ক্ষেত্র বিশেষে কিছু ফসলের অপ্রধান ক্ষতিকারক পোকা। এটা তেমন কিছু ক্ষতি করে না। অল্প কিছু ক্ষতি করতে পারে।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন