
নিউজ ডেস্কঃ এই মে মাসেই বাংলাদেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজারের মাইলফলক অতিক্রম করবে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে স্বাস্থ্য বিভাগ। যদিও শুরু থেকে আজ পর্যন্ত গত প্রায় দুই মাসে সারা দেশে করোনা রোগী সনাক্ত হয়েছে ৮ হাজার। যেখানে গত ২৪ ঘণ্টায় সারাদেশের ৫ হাজার ৫৭৩টি নমুনা পরীক্ষা করে নতুন ৫৭১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছেন। আর এদিন মৃত্যুর তালিকায় নতুন করে যোগ হয়েছে এক নারী ও পুরুষ। এদিকে এই দুই মাসে রোগ নির্নয়ের সঠিকতা নিয়েও দানা বাঁধতে শুরু করেছে নানা অবিশ্বাস আর সন্দেহ । একই লোকের নমুনা পরীক্ষা করে দেশের দুটি পৃথক ল্যাব বিপরীতধর্মী রিপোর্ট দিয়েছে। জানাগেছে গত সোমবার কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালে স্থাপিত পিসিআর ল্যাবে চার জেলার ১৭৩ নমুনা পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে কুষ্টিয়ার এক উপজেলা চেয়ারম্যান, এসিল্যান্ড, সরকারি হাসপাতালের দুই চিকিৎসকসহ নারায়ণগঞ্জফেরত একই পরিবারের চারজন সদস্য, ঢাকা ফেরত এক তরুণী এবং অপর এক পরিবারের স্বামী-স্ত্রী ও তাদের তিন সন্তানসহ মোট ৬৭ জনের দেহে করোনাভাইরাস শনাক্ত হয়। হঠাৎ এতবেশী পজিটিভ রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েন কর্তৃপক্ষ। যদিও একই নমুনা পূনঃপরীক্ষার জন্য আবার পাঠানো হয় ঢাকার আইইডিসিআরে।পরে সেখান থেকে জানানো হয়েছে কুষ্টিয়ার পরীক্ষা রিপোর্ট সঠিক নয়, এখানে মাত্র ২ জনের শরীরে করোনা ভাইরাস পজেটিভ আছে।
এদিকে চীনের তৈরী,কীটসহ নানান সুরক্ষা সামগ্রীর মান নিয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছে । প্রতিবেশী দেশ ভারতসহ ইউরোপ ও আমেরিকার মত উন্নত দেশগুলো যখন তাদের ব্যবহার করা করোনা সনাক্ত কীট ও সুরক্ষা সামগ্রী নির্মাতার তালিকা থেকে চীনকে বাদ দিচ্ছে সেখানে বাংলাদেশ পরিপূর্নভাবে চীনের উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছে । যা নাগরিকদের মনে আরও সন্দেহে বাড়িয়ে তুলছে । পাশাপাশি সরকারের নানান পদক্ষেপেও করোনার সংক্রমন বন্ধ ও সুরক্ষা বিষয়ে সরকারের উপর নানান সন্দেহ আরও ঘনিভূত হচ্ছে। ইতিমধ্যেই সরকারের সরবরাহ করা মাস্কসহ সুরক্ষা সামগ্রীর মান নিয়ে কথা বলে রাজধানীর এক হাসপাতালের কর্মকর্তা সরকারের রোষানলে পড়েছেন। এই পরিস্থিতির মধ্যে আজ শুক্রবার (০১ মে) দুপুরে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অনলাইন বুলেটিনে জানানো হয় এই মাসেই সারাদেশে ব্যাপক সংক্রমনের পূর্বাভাস। দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ এমন সময় এই আভাস দিল যখন দেশের বিভিন্ন এলাকার মানুষ আবারও ব্যাপকহারে ঢাকা মুখি হয়েছে। বাংলায় একটা প্রবাদ আছে প্রয়োজন আইন মানে না- বর্তমানে দেশের সর্বত্র দেখা যাচ্ছে এর সত্যতা। সারাদেশে লকডাউনের কারনে গনপরিবহন বন্ধ থাকলেও প্রতিদিন নানান কৌশলে মানুষ ঢাকায় ঢুকছে । গত ৩/৪ দিন মাওয়া ও আরিচা ফেরীঘাটের দিকে তাকালে এই ঢাকামুখি জনতার ঢল সম্পর্কে একটা সম্যক ধারনা পাওয়া যাবে। এমনই নানা কৌশলে আসছে উত্তরবঙ্গ, সিলেট ও চট্টগ্রাম থেকেও।
এমনই পরিস্থিতিতে দেশের স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের আভাস, এ মাসে আক্রান্তের সংখ্যা ৫০ হাজার ছাড়াবে। আশার পাশাপাশি শঙ্কার তথ্য দিচ্ছে দেশের স্বাস্থ্য বিভাগ। আটটি বিভাগের তথ্য পর্যবেক্ষণ করে গবেষকরা বলছেন, মে মাসেই আক্রান্তের সংখ্যা পৌঁছাতে পারে অর্ধ লক্ষে। অর্থাৎ এক মাসেই বাড়তে পারে অন্তত ৪০ হাজারেরও বেশি কোভিড রোগী। আর মৃতের সংখ্যা হতে পারে ৮০০ থেকে ১ হাজার। তবে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিতেই এ পূর্বাভাস জানিয়ে স্বাস্থ্য বিভাগ বলছে, প্রকৃত চিত্র এমন নাও হতে পারে। মে মাসে করোনা রোগী ৫০ হাজার ছাড়ানোর বিষয়ে প্রশ্ন করলে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় অতিরিক্ত সচিব মো. হাবিবুর রহমান খান বলেন, ‘আমাদের সেন্সে এটা কাজে লাগবে। আমাদের প্রস্তুতিতে কোনো ঘাটতি আছে কিনা বা আরো লাগবে কিনা সে সম্পর্কে কাজে লাগবে। তবে তারা ধারণা করেছেন মানেই এই নয় যে, তাই ঘটবে। তারা ৫০ হাজার ধারণা করেছেন, সেখানে ৪০ বা ৩০ হাজারও হতে পারে।