
নিউজ ডেস্কঃ মাত্র ঘুম ভেঙেছে দেড় বছরের ছোট্ট শিশু ইয়ারার। তারপরই মা-বাবার হাত ধরে চলে এসেছে শহীদ মিনারে। চোখে যেন এখনো লেগে আছে ঘুম। তবে শহীদ মিনারের বেদীতে যখন সে ফুল দিতে উঠেছে, তখন থেকেই উচ্ছলতা ছুঁয়ে গেছে তাকে। সেই উচ্ছলতায় মায়ের কোলে উঠে মাকে সঙ্গে নিয়ে প্রজাপতির মতো শহীদ মিনারের পুরো প্রাঙ্গণ তার উড়ে বেড়ানো। কথা হলে ইয়ারার মা ডা. সামসুন্নাহার রনি বলেন, ছোট থেকে আমি পরিবারের শিক্ষা পেয়েছি যে এই দিনটিতে শহীদ মিনারে এসে ফুল দিয়ে ভাষা শহীদদের শ্রদ্ধা জানানো উচিত। আমিও আমার শিশুদের সেটিই শেখাতে চাই। তবে আমি মনে করি শুধু একটি দিন নয়, বছরের প্রতিটি দিন বাংলা ভাষার শুদ্ধ ব্যবহার করা উচিত, এই ভাষাটা নিয়ে আমাদের আরও গর্ব করা উচিত।
সত্যিই যেন তাই, পাকিস্তানের জান্তারা কেড়ে নিতে চেয়েছিল আমাদের প্রিয় বাংলা ভাষা। লুণ্ঠন করতে চেয়েছিল বাঙালির ইতিহাস-ঐতিহ্য-গর্বের শ্রেষ্ঠ স্থানটি। কিন্তু বাংলার দামাল ছেলেরা তা হতে দেয়নি। বুকের রক্ত দিয়ে তারা প্রতিষ্ঠা করেছে মাতৃভাষার সম্মান। ১৯৫২ সালের এই দিনে (২১ ফেব্রুয়ারি) রক্তের বিনিময়ে অর্জিত হয়েছিল মাতৃভাষা বাংলার অধিকার। আজ রক্তাক্ত সেই অমর একুশে ফেব্রুয়ারি। বাঙালি জাতির ইতিহাসে গভীর শোক ও বেদনার দিন; একই সঙ্গে গৌরবেরও।