News71.com
 Bangladesh
 27 Apr 21, 02:43 PM
 262           
 0
 27 Apr 21, 02:43 PM

হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটির পাঁচজনের চারজনই বাবুনগরীর আত্মীয়।।

হেফাজতের আহ্বায়ক কমিটির পাঁচজনের চারজনই বাবুনগরীর আত্মীয়।।

নিউজ ডেস্কঃ তিন ধরনের চাপে পড়ে কমিটি ভেঙে দিয়েছে বাবুনগরী নেতৃত্বাধীন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশ। একের পর এক নাশকতা ও বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে সম্প্রতি কেন্দ্রীয় অনেক নেতার গ্রেপ্তারে কোণঠাসা হয়ে পড়ে সংগঠনটি। এরই মধ্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ গোয়েন্দা কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকও হয়েছে। সেই বৈঠকে হেফাজতকে সংগঠন থেকে রাজনৈতিক নেতাদের বাদ দেওয়াসহ তিনটি কড়া শর্ত দেওয়া হয় বলে খবর বেরিয়েছে। এই চাপের সঙ্গে সংগঠনের ভেতর আরো দুটি চাপে পড়ে হেফাজত। এর একটি হচ্ছে, রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে নাশকতার কর্মসূচিসহ কিছু কার্যক্রমের বিরোধিতা করে কয়েকজন নেতার পদত্যাগের পর আরো অনেকে পদত্যাগের হুমকি দিচ্ছিলেন। আরেকটি হচ্ছে, গ্রেপ্তার বন্ধের ব্যবস্থা করতে শীর্ষস্থানীয় নেতাদের ওপর সংগঠনের নেতাকর্মীদের চাপ বাড়ছিল।

এই তিন চাপে দিশাহারা শীর্ষস্থানীয় নেতারা নিজেদের গ্রেপ্তারের ঝুঁকির মধ্যে পড়ে তড়িঘড়ি করে হেফাজতের কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেন। গত রবিবার রাত ১১টার দিকে ফেসবুকে এক ভিডিও বার্তায় সংগঠনের আমির জুনাইদ বাবুনগরী বলেন, দেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় অরাজনৈতিক সংগঠন হেফাজতে ইসলামের কেন্দ্রীয় কমিটির কিছু গুরুত্বপূর্ণ নেতার পরামর্শে কেন্দ্রীয় কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো। আগামী দিনে আহ্বায়ক কমিটির মাধ্যমে হেফাজতের কার্যক্রম পরিচালিত হবে।

এর পরও সংগঠনে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে মধ্যরাতেই আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করে বাবুনগরীপক্ষ। রাত পৌনে ৩টার দিকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে প্রথমে তিন সদস্যের আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হয়। যেখানে বিলুপ্ত কমিটির উপদেষ্টা মহিবুল্লাহ বাবুনগরীর নেতৃত্বে আহ্বায়ক কমিটিতে প্রথমে বিদায়ী আমির জুনাইদ বাবুনগরী ও বিদায়ী মহাসচিব নুরুল ইসলাম জিহাদীকে রাখা হয়। তিন সদস্যের কমিটিতে বর্তমান নেতারাই থাকায় সমঝোতার আলোচনায় প্রশ্ন উঠতে পারে ভেবে আবারও দুজনকে যুক্ত করা হয়। পরে রাত ৪টার সময় আরেকটি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আহ্বায়ক কমিটিতে সদস্য হিসেবে সালাহউদ্দিন নানুপুরী ও অধ্যাপক মিজানুর রহমান চৌধুরীকে যুক্ত করা হয়েছে। সব মিলিয়ে পাঁচজনের আহ্বায়ক কমিটি।

এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় কমিটি ভেঙে দুই দফায় আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা করা হলেও এই কমিটি নিয়ে হেফাজতের অনেকেই নাখোশ। কমিটি ভাঙায় ক্ষোভ-হতাশা সাধারণ কর্মীদের মধ্যেও। তবে নেতারা নতুন মেরুকরণের দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন। আহ্বায়ক কমিটির মধ্যে অধ্যাপক মিজানুর রহমান ছাড়া অন্য চারজনই জুনাইদ বাবুনগরীর আত্মীয়। মহিবুল্লাহ বাবুনগরী তাঁর আপন মামা, নুরুল ইসলাম জিহাদী ফুফাতো ভাই ও সালাউদ্দিন নানুপুরী মেয়ের ভাশুর ও ভাগ্নে সম্পর্ক। জুনাইদ বাবুনগরীসহ চারজনের বাড়ি চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পাশের উপজেলা ফটিকছড়িতে। শুরুতেই কমিটিতে আত্মীয়করণ করায় হেফাজতের নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকেই এই আহ্বায়ক কমিটিকে ‘ফটিকছড়ি কমিটি’ বলেও আখ্যায়িত করছেন।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন