News71.com
 Bangladesh
 06 Dec 20, 07:01 PM
 159           
 0
 06 Dec 20, 07:01 PM

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা॥ দণ্ডিত দুই আসামির জামিন আবেদন খারিজ

২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলা॥ দণ্ডিত দুই আসামির জামিন আবেদন খারিজ

নিউজ ডেস্কঃ ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা মামলায় দণ্ডিত দুই আসামিক জামিন আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ। তারা হলেন পুলিশের সাবেক ডিআইজি খান সাঈদ হাসান ও ঢাকা মহানগর পুলিশের সাবেক উপ-কমিশনার ওবায়দুর রহমান খান। আজ রবিবার তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগের বেঞ্চ। এদিন আদালতে আসামিদের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী আরশাদুর রউফ। তার সঙ্গে ছিলেন আইনজীবী জামিলুর রহমান। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এ এম আমিন উদ্দিন। এ মামলায় ওই দুই কর্মকর্তাকে দুই বছর কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও ছয় মাস করে সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়। তারা ২০১৯ সালের ২৮ জানুয়ারি তারা আত্মসমর্পণ করে আপিল করেছিলেন। হাইকোর্ট তাদের আপিল শুনানির জন্য গ্রহণ করে জরিমানা স্থগিত করেন। ২০২০ সালে ৯ মার্চ তাদের জামিন আবেদন খারিজ করে দেন হাইকোর্ট। এরপর তারা আপিল বিভাগে জামিনের আবেদন করেন। যেটি আজ রবিবার খারিজ করে দিলেন আদালত। ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট রাজধানীতে বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের সমাবেশে ওই গ্রেনেড হামলা চালানো হয়। এতে অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ও তৎকালীন বিরোধীদলীয় নেত্রী শেখ হাসিনা। তবে হামলায় আওয়ামী লীগের মহিলাবিষয়ক সম্পাদক, সাবেক রাষ্ট্রপতি প্রয়াত জিল্লুর রহমানের স্ত্রী আইভী রহমানসহ ২৪ জন নিহত হন। আহত হন দলের তিন শতাধিক নেতাকর্মী। ঘটনার পরদিন মতিঝিল থানার উপ-পরিদর্শক এসআই ফারুক আহমেদ বাদী হয়ে মামলাটি করেন।

তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় তদন্ত শেষে ২০০৮ সালের ১১ জুন অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। এতে বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টু, তার ভাই মাওলানা তাজউদ্দিন ও হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানসহ ২২ জনকে আসামি করা হয়। ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পর অধিকতর তদন্তের নির্দেশ দেন আদালত। দুই বছর তদন্তের পর ২০১১ সালের ৩ জুলাই ৩০ জনকে আসামি করে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। এর ফলে এ মামলায় মোট আসামির সংখ্যা হয় ৫২। ৫২ আসামির মধ্যে আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ ও মুফতি হান্নান ও তার সহযোগী শাহেদুল ইসলাম বিপুলের মৃত্যুদণ্ড অন্য মামলায় কার্যকর হয়। তিনজনের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ায় এ মামলার আসামির সংখ্যা দাঁড়ায় ৪৯ জনে। এ ৪৯ জনের মধ্যে রায় দেওয়ার সময় কারাগারে ছিলেন ৩১ জন। পলাতক ছিলেন বাকি ১৮ জন। তবে এই দুই কর্মকর্তা আত্মসমর্পণ করেন। এ মামলায় ২০১৮ সালের ১০ অক্টোবর সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী লুৎফুজ্জামান বাবর ও বিএনপি নেতা আবদুস সালাম পিন্টুসহ ১৯ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেন বিচারিক আদালত। একইসঙ্গে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তৎকালীন সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ ১৯ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়। বাকি ১১ আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন