
নিউজ ডেস্কঃ প্রযুক্তির ব্যবহারে গত দুই দশকে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থায় একের পর এক যুক্ত হয়েছে এটিএম বুথ, আন্তঃব্যাংক তহবিল ট্রান্সফার, অনলাইন লেনদেন, মোবাইল ব্যাংকিং, ক্রেডিট কার্ডসহ নানা রকম সেবা। নির্ভুলভাবে দ্রুততার সঙ্গে এসব সেবা দেয়া সহজ করেছে সেন্ট্রালাইজড অনলাইন রিয়েলটাইম এক্সচেঞ্জ বা কোর ব্যাংকিং সলিউশন- সিবিএস। তবে, দেশের বেশিরভাগ বাণিজ্যিক ব্যাংক এক্ষেত্রে বিদেশি সফটওয়্যারমুখী। এমনকি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নির্দেশনা সত্ত্বেও রাষ্টায়ত্ত্ব ব্যাংকগুলো আস্থাহীনতায় দেশি সিবিএস ব্যবহার করছে না। তবে দেশে বিশ্বমানের ব্যাংকিং সলিউশন তৈরির চেষ্টা করছেন বলে জানান অগ্রণী ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক শামস-উল-ইসলাম।তিনি বলেন, এখন যেসব দেশি সিবিএস আছে তা আমাদের মত বড় ব্যাংকের জন্য কতটা ব্যবহারযোগ্য সেটা একটা প্রশ্ন। ওগুলো ছোট স্কেলের ব্যাংকগুলো ব্যবহার করছে। আমি মাস ছয়েক আগে অফিসিয়ালি অর্থমন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছি, আমারা চার-পাঁচটা রাষ্ট্রায়ত্ব ব্যাংক যদি ২শ' থেকে ৩শ' কোটি করে টাকা আলাদা রেখে সাবসিডিয়ারি কোম্পাানি করি, সেখান থেকে কোর ব্যাংকিং সলিউশন করতে পারি দেশের দক্ষ জনবল নিয়োগ করে। তারা এটা ডেভেলপ করবে, গবেষণা করবে। আমাদের দেশের অর্ধেক বা তিনভাগের একভাগ ব্যাংকও যদি এই সিবিএস ব্যবহার করে তবে লাভজনক হবে সাবসিডিয়ারি প্রতিষ্ঠানটি। অর্থ মন্ত্রণালয়ে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. আসাদুল ইসলাম এটাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন এবং জানান এ বিষয়ে একটা টেকনিক্যাল ও ম্যানেজমেন্ট কমিটিও করা হয়েছে। তিনি নামও প্রস্তাব করেছেন 'বঙ্গবন্ধু সিবিএস', তা গৃহীতও হয়েছে। তিনি আশাবাদী, সেদিন আর দূরে নয় যে দেশি কোর ব্যাংকিং সলিউশনে দেশের ব্যাংক চলবে। এ ব্যাপারে টেকনিক্যাল কমিটির প্রধান প্রযুক্তিবিদ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ কায়কোবাদ সময় সংবাদকে বলেন, এ বিষয়ে এখনই বিস্তারিত বলতে চাই না। আমরা কাজ শুরু করেছি। অর্থবিভাগের সচিব মিটিংয়ে বলছিলেন, স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও কেন এই সিবিএস বাইরে থেকে আনতে হবে। অনেক টাকা বিদেশে চলে যায়। তারপর সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের প্রাথমিক কাজ শুরু হয়েছে। রাষ্ট্রীয় ব্যাংকগুলোও সাপোর্ট দিচ্ছে।