
নিউজ ডেস্কঃ অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে চা-শিল্প। শ্রমিকেরা নিজেদের মজুরি, উৎসব বোনাস প্রভৃতির দাবিতে আন্দোলনে নেমেছেন। কর্মদিবস শুরু হওয়ার আগে নিজ নিজ বাগানের দুই থেকে তিন ঘণ্টার করে অবস্থান ধর্মঘট করছেন। চা-বাগান মালিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ টি অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএ) এবং শ্রমিকপক্ষের সংগঠন বাংলাদেশ চা-শ্রমিক ইউনিয়ন (বাচাশ্রই) এর মধ্যে মজুরি বাড়ানোসহ নানা বিষয়ের দ্বিপাক্ষিক আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। বিটিএ সূত্র জানায়, চা-শ্রমিকদের এ আন্দোলন নিয়মবর্হিভুত। এর সূচনা হয়েছিল চলতি মাসে ৬ অক্টোবর। পর্যায়ক্রমে সারাদেশের ৭টি ভ্যালির প্রায় সব বাগানেই আন্দোলনের অংশ হিসেবে কর্মবিরতি পালিত হচ্ছে। অবিলম্বে চুক্তি সম্পাদন এবং দুর্গাপূজার আগে নতুন মজুরি ও বোনাস পরিশোধের দাবিতে বাগানে বাগানে অন্যায়ভাবে স্লোগানমুখর তারা।
তবে চা-বাগান কর্তৃপক্ষের দাবি চা-বাগানের শ্রমিকরা দেশের অন্যান্য শ্রমিকদের চেয়ে অপেক্ষাকৃত ভালো অবস্থানেই আছেন। সবদিক বিবেচনায় তাদের মজুরি বাড়ার দাবি অনেকটাই অযৌক্তিক। বিশেষজ্ঞের অভিমত, মজুরি বেশি বাড়লে কিছু চা-বাগান বন্ধ হয়ে যাবে। ফুলতলা চা-বাগানের উপ-ব্যবস্থাপক তৌহিদুল ইসলাম বলেন, ‘চা শ্রমিকদের বেতন ১০/২০ টাকা বাড়লে অনেক চা-বাগানই বন্ধ হয়ে যাবে, অথবা হাত বদল হবে। গ্রুপ বা কোম্পানির বাগানগুলো হয়তো টিকে যেতে পারবে। কিন্তু সি ক্যাটাগরি বেসরকারি চা-বাগানগুলো পড়বে মারাত্মক ঝুঁকির মুখে। করোনা সংক্রমণের কারণে চা-বিপণনে দেখা দিয়েছে মন্দাভাব। আমরা খুব খারাপ অবস্থার মধ্যে আছি। ’
চা-শ্রমিকদের অন্যান্য সুবিধার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের চা শ্রমিকদের মাত্র ২ টাকা করে চাউল / রেশন (সাবসিডি) দিচ্ছি। আপনি কোথায় পাবেন দুই টাকার চাল বা আটা? আমরা এগুলো লসে দিচ্ছি। তারপর রয়েছে তাদের হাউজিং সুবিধা। তারা ফ্রিতে বাগানের বসতভিটায় বছরের পর বছর ধরে বাস করছে। তারপর রয়েছে চা-বাগানের অনাবাদি জমিগুলোতে সম্পূর্ণ ফ্রিতে কৃষিজাত পণ্য চাষাবাদের সুযোগ। সেখানে তারা হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল-ভেড়া প্রভৃতি পালন করার ফ্রি সুবিধা ভোগ করছে। শুধু তা-ই নয়, প্রতি বছর কোরবানিতে একাধিক গবাদি পশু বিক্রি করে প্রচুর লাভবান হচ্ছে কোনো কোনো চা শ্রমিকপরিবার। এই চা-বাগান কর্মকর্তা আরো বলেন, ‘চা-বাগানের নিবন্ধিত চা-শ্রমিকসহ তাদের পুরো পরিবারের সদস্যদের চিকিৎসা-ওষুধ পুরোপুরি ফ্রি। এছাড়াও সবচেয়ে বড় যে ব্যাপারটা সেটা হলো প্রাথমিক শিক্ষা। এটাও সরকারের সঙ্গে যৌথভাবে আমরা পরিচালনা করছি। অর্থাৎ ৫টি মৌলিক অধিকারের বস্ত্র ছাড়া ৪টি-ই আমরা পূরণ করছি। ’