
নিউজ ডেস্কঃ বন্যা-বৃষ্টি ও ভাঙনে নাকাল হয়ে পড়েছে সিরাজগঞ্জের যমুনা তীরবর্তী মানুষেরা। টানা আড়াই মাসের বন্যা শেষে নষ্ট ঘরের টিন-বেড়া আসবাসপত্র মেরামত করার আগেই ফের যমুনার পানি বাড়তে শুরু করেছে। চতুর্থদফা পানি বাড়ায় নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে পড়েছে। শতশত বসতভিটায় ফের পানি ওঠতে শুরু করেছে। নতুন করে দুর্ভোগে পড়েছে হাজার হাজার পরিবার।
অনেকে ফের বাঁধে আশ্রয় নিতে শুরু করেছে। কৃষকরা পানি নেমে যাওয়ায় যে সমস্ত ফসল রোপণ করেছিল পানি বাড়ায় সেগুলো ফের তলিয়ে গেছে। কয়েকদিন আগের ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার আগেই ফের নতুন করে ক্ষতির মধ্যে পড়ছে কৃষকরা। এতে চোখে-মুখে অন্ধকার দেখছে কৃষকরা। অন্যদিকে, পানি বাড়ায় যমুনার অরক্ষিত অংশে তীব্র ভাঙন শুরু হয়েছে। প্রতিদিন বিলীন হচ্ছে শতশত বসতভিটা ও ফসলী জমি। ভাঙ্গন আতঙ্কে নির্ঘুম রাত কাটছে। চৌহালী-শাহজাদপুর ও এনায়েতপুরের নদী তীরবর্তী মানুষের। দুর্যোগের মধ্যে আয় রোজগার না থাকায় এসব মানুষের মধ্যে চরম খাদ্য, ওষুধ ও শুকনো খাবারের সংকট দেখা দিয়েছে। দেখা দিয়েছে পানিবাহিত ডায়রিয়া ও হাত-পায়ে ঘাসহ নানা রোগ।
এ ছাড়াও যারা এখনো বাঁধের উপর আশ্রিত রয়েছে বৃষ্টি তাদের জীবনকে দুর্বিসহ করে তুলেছে। পলিথিন মুড়ে দিয়ে অনেকে রাত জেগে থাকছে। যেন কষ্টের শেষ নেই তাদের। চর মালসাপাড়া মহল্লার আবু তাহের, শিল্পী খাতুন ও জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, আড়াই মাসের বন্যায় ঘরবাড়ীর ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। সে ক্ষতি কোনমতো জোড়াতালির হালকা মেরামত করে বাড়ীতে ওঠেছিলাম। কিন্তু ফের পানি বাড়ায় বসতবাড়ীতে আবারো পানি ওঠেছে। আবার বাঁধে আশ্রয় নিতে হচ্ছে। এতো কষ্ট আর সহ্য হয় না। একদিকে আয় রোজগার নেই অন্যদিকে সরকারী কোন সহায়তাও নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে ভয়াবহ কস্টে দিনযাপন করছি।