
নিউজ ডেস্কঃ বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) উচ্চ ফলনশীল তিনটি ধানের নতুন জাত উদ্ভাবন করেছে। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধান উপকূলীয় এলাকার লবণাক্ততা সহ্য করতে সক্ষম এবং এগুলো আউশ মৌসুমে চাষ করা যাবে। জাতীয় বীজ বোর্ডের ১০৩তম সভায় মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) এ তিনটি ধানের জাত অনুমোদন করা হয়। নতুন উদ্ভাবিত এসব ধানের মধ্যে বোরো মৌসুমে ২টি ও আউশ মৌসুমে চাষাবাদের উপযোগী ১টি। এ বিষয়ে ব্রি’র মহাপরিচালক ড. শাহজাহান কবীর জানান, নতুন উদ্ভাবিত ব্রি ধান৯৭ ও ব্রি ধান৯৯ দেশের উপকূলীয় লবণাক্ত অঞ্চলের জন্য এবং ব্রি ধান৯৮ সারাদেশে আউশ মৌসুমে চাষাবাদের জন্য অবমুক্ত করা হয়। নতুন এই তিনটি জাত উদ্ভাবনের ফলে ব্রি উদ্ভাবিত সর্বমোট ধান জাতের সংখ্যা হলো ১০৫টি।
ব্রি ধান৯৮: বাংলাদেশ ধান গবেষণা ইনস্টিটিউট (ব্রি) এর সিনিয়র কমিউনিকেশন অফিসার কৃষিবিদ এম আব্দুল মোমিন জানান, এই ধান আউশ মৌসুমে চাষ উপযোগী। এর ফলন প্রতি হেক্টরে ৫.০৯ থেকে ৫.৮৭ টন। এর দানা লম্বা ও চিকন। এ জাতের ধানের দানার রং সোনালী। এ জাতের জীবনকাল ১১২ দিন যা রোপা আউশ মৌসুমের জাত বিআর২৬ এর সমান। তিনি জানান, ব্রি ধান৯৭ ও ব্রি ধান৯৯ বোরো মৌসুমে উচ্চ ফলনশীল ও লবণাক্ততা সহনশীল। এ জাতগুলো চারা অবস্থায় ১৪ ডিএস/মি এবং সমগ্র জীবনকাল ৮-১০ ডিএস/মি লবণাক্ততা সহ্য করতে পারে।
ব্রি ধান৯৭: ব্রি ধান৯৭ এর গড় জীবনকাল ১৫২ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৪.৯ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.০ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এর চাল মাঝারি মোটা হওয়ায় বরগুনা, পটুয়াখালী, বরিশাল, পিরোজপুর ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হবে ।
ব্রি ধান৯৯: ব্রি ধান৯৯ এর গড় জীবন কাল ১৫৫ দিন এবং গড় ফলন হেক্টর প্রতি ৫.৪ টন। উপযুক্ত পরিচর্যা পেলে অনুকূল পরিবেশে হেক্টর প্রতি ৭.১ টন পর্যন্ত ফলন দিতে সক্ষম। এ জাতের ১০০০ টি পুষ্ট ধানের ওজন গড়ে ২২.৮ গ্রাম। ধানের দানায় অ্যামাইলোজের পরিমাণ শতকরা ২৭.১ ভাগ এবং প্রোটিনের পরিমাণ শতকরা ৭.৯ ভাগ। গাছের গড় উচ্চতা ৯৪ সে.মি. ও ডিগপাতা খাড়া। এর চাল লম্বা ও চিকন হওয়ায় সাতক্ষীরা, বাগেরহাট ও খুলনা অঞ্চলে অধিক জনপ্রিয় হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।