
নিউজ ডেস্কঃ রঙিন কাগজ, আঠা, স্টিকার ও কলমের রিফিল দিয়ে পরিবেশবান্ধব কলম তৈরি করছেন যশোরের এক গৃহিনী। খেলার ছলে শেখা এ কলম তার টানাপোড়েনের সংসারে আয়ের একমাত্র সম্বল। তার এ উদ্ভাবন বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ইতোমধ্যে সাড়া ফেলেছে। পরিবেশবাদীদের মতে, পরিবেশ রক্ষায় এ কলমের ব্যবহার হতে পারে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। শৈশবে খেলার ছলে কাগজ আর ঝাঁটার কাঠি দিয়ে কলম তৈরি করে মাটিতে ছবি ও লেখালেখি করতেন যশোর শহরের লোন অফিসপাড়ার গৃহবধূ নাছিমা আক্তার। বিবাহিত জীবনে পা রেখে আর্থিক টানাপোড়নের কারণে শৈশবের সেই অভিজ্ঞতা এখন আয়ের একমাত্র অবলম্বন তার। রঙিন কাগজ, আঠা, স্টিকার ও বলপেনের রিফিল দিয়ে কলম তৈরি শুরু করেন। এরপর বাজারজাতের জন্য ছেলেকে নিয়ে নেমে পড়েন। সাড়া মেলায় এখন সংসারের কাজকর্মের পাশাপাশি প্রতিদিনই রঙিন কাগজকে পরতে পরতে সাজিয়ে রূপ দিচ্ছেন দৃষ্টিনন্দন ও পরিবেশবান্ধব কলমে।
পরিবেশবান্ধব কলমের উদ্ভাবক নাছিমা আক্তার বলেন, 'আমি যেখানে যাচ্ছি সেখানে সবাই কলমটা নিচ্ছে কারণ কলমটা পরিবেশবান্ধব। এভাবে আমার ভালো বিক্রি হচ্ছে। এই খবর জেনে অনেক মেয়েরা এগিয়ে আসছে আমার কাছে কাজের জন্য যে তারাও এই কাজ শিখে আমার মত কলম তৈরি করবে।' ইতোমধ্যে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যবহৃত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব কলমটি। কলম ব্যবহারকারী শিক্ষার্থী ফাইজা নওশীন অরনি বলেন, 'এই কলমটি ব্যবহার করে আমার খুব ভাল লাগে। এই কলমটি প্লাস্টিক এর কলমের মত লেখা হয়।' কলম ব্যবহারকারী যশোরের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আশরাফ হোসেন বলেন, 'পরিবেশবান্ধব কলম যেহেতু তাই এটি আমার অফিসে ব্যবহার করবো। পুলিশ লাইন স্কুল আছে সেখানে ব্যবহার করতে বলবো। এবং আমার মনে হয়েছে তাকে একটু আর্থিক সহায়তা দেওয়া দরকার।'
পরিবেশ বিষয়ক এ শিক্ষকের মতে, কলমটি ৯০ শতাংশ পরিবেশবান্ধব। যশোর সরকারি এমএম কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. ছোলজার রহমান বলেন, 'নাসিমা বেগমের এই কলমটি ৯০ শতাংশ পরিবেশ সহায়ক অন্যদিকে বাজারে বিদ্যমান যে কলমগুলো আছে সেগুলো ১০০% পরিবেশবিরোধী।' দুই সন্তানের জননী নাছিমা আক্তার চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশুনা করেছেন। তার শ্রবণ প্রতিবন্ধী স্বামী কর্মহীন।