
নিউজ ডেস্কঃ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে নিয়ে শুক্রবার (২১ আগস্ট) প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া বক্তব্যকে অসত্য ও অনভিপ্রেত দাবি করে এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। শনিবার (২২ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে মহাসচিব এ প্রতিবাদ জানান।
মির্জা ফখরুল বলেন, ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় হতাহতদের স্মরণে শনিবার আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের অনুষ্ঠানে গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী যুক্ত হয়ে বিএনপি চেয়ারপারসনকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘আপনি আমাকে মারার চেষ্টা করেছেন’। এছাড়া তিনি খালেদা জিয়াকে নিয়ে আরও মনগড়া ও ভিত্তিহীন মন্তব্য করেছেন-যা অনভিপ্রেত ও সম্পূর্ণরুপে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য প্রণোদিত। মূলত ২১ আগস্টের আকস্মিক হামলার ঘটনা শোনার সঙ্গে সঙ্গে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া হতবাক ও বিচলিত হয়ে পড়েন। তিনি দ্রুত হতাহতদের খবর নিতে থাকেন। তিনি আওয়ামী লীগ নেত্রী আইভি রহমান এবং তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেতা শেখ হাসিনার নিরাপত্তা উপদেষ্টা জেনারেল তারেক সিদ্দিকীকে দেখতে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) যান।
মির্জা ফখরুল আরও বলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া তখন শেখ হাসিনার বাসায় গিয়ে সমবেদনা জানাতে চেষ্টা করেন। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনী দিনভর চেষ্টাও চালায়। কিন্তু ছাত্রলীগ ও যুবলীগের অসংখ্য নেতাকর্মী সুধা সদনের আশেপাশের রাস্তা দিনরাত দখল করে রেখেছিল। একপর্যায়ে নিরাপত্তার অগ্রিম টিম হিসেবে পাঠানো প্রধানমন্ত্রীর নিরাপত্তা বাহিনীর দায়িত্বে নিয়োজিত দুই সদস্যকে। তাদেরকে শারীরিকভাবে নাজেহাল করে সেখান থেকে বের করে দেওয়া হয়। ২১ আগস্ট বোমা হামলার ঘটনা নিঃসন্দেহে ভয়াবহ এবং এতে হতাহতের ঘটনা মর্মস্পর্শী ও হৃদয়বিদারক। এ ভয়াবহ হামলার ঘটনায় তৎকালীন রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার ও কেবিনেট নিন্দা জানান, নিহত ও আহতদের প্রতি শোক ও সমবেদনা জানান এবং দোষীদের বিচারের দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। শেখ হাসিনার কাছে খালেদা জিয়া নিজ স্বাক্ষরে শোক ও সমবেদনা জানিয়ে চিঠি পাঠান। সেই চিঠি পৌঁছাতে গিয়ে পত্রবাহক নিজেও হামলার শিকার হন। বোমা হামলার সুষ্ঠু তদন্তের জন্য বিশেষজ্ঞ সার্ভিস দিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে এফবিআই সদস্যরা আসেন। জাতীয় সংসদে উত্থাপিত দাবি অনুযায়ী, সুপ্রিম কোর্টের কর্মরত একজন বিচারপতিকে দিয়ে তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়, যোগ করেন ফখরুল।