
নিউজ ডেস্কঃ ইউরোপ-আমেরিকার মতো বাংলাদেশেও চড়া দামের উচ্চ ক্ষমতা সম্পন্ন মাদক ফেনইথাইলামিন পাচারের টার্গেট নিয়েছে আন্তর্জাতিক মাদক পাচারকারী চক্র। ইতোমধ্যে শত কোটি টাকা মূল্যের অন্তত ৭ কেজি মাদক বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে বলে তথ্য পেয়েছে আইন শৃঙ্খলাবাহিনী। ১২ কোটি টাকা মূল্যের সাড়ে সাতশ গ্রাম ফেনইথাইলামিনসহ একজনকে আটকের পর বের হয়ে আসছে নতুন এই মাদক নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য। তবে এর বিস্তার রোধ করা না গেলে সমাজে চরম বিশৃঙ্খলার শঙ্কা বিশেষজ্ঞদের।কোকেন কেনার নাম করে কয়েকদিন আগে সাড়ে সাতশো গ্রাম সাদা পাউডারসহ একজনকে আটক করে র্যাব। কিন্তু পরবর্তীতে পরীক্ষায় উদ্ধারকৃত পাউডারগুলো উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন মাদক ফেনইথাইলামিন হিসাবে চিহ্নিত হলে নড়ে-চড়ে বসে র্যাবের শীর্ষ কর্মকর্তারা। তাদের তথ্য মতে, আন্তর্জাতিক মাদক চোরকারবারীদের কাছে প্রতি কেজি ফেনইথাইলামিনের দাম প্রায় ১৬ কোটি টাকা।র্যাব-৭ অধিনায়ক লে. কর্ণেল মশিউর রহমান জুয়েল বলেন, এই মাদকটা এলিট ক্লাসের লোকজন ব্যবহার করবে। অন্য যেসব মাদকসেবী রয়েছে; তারা এই মাদকটা ব্যবহার করতে পারে না।এর আগে ইউরোপ আমেরিকার বিভিন্ন দেশে এই মাদকের কয়েকটি চালান ধরা পড়লেও বাংলাদেশে বিশেষ এই মাদকের চালান আটক এই প্রথম।
সম্প্রতি বাংলাদেশের মাদক আইনে এটিকে নিষিদ্ধ ঘোষণা করে সর্বোচ্চ শাস্তি হিসাবে মৃত্যুদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে।চট্টগ্রাম বিভাগের মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর অতিরিক্ত পরিচালক মজিবুর রহমান পাটোয়ারী বলেন, এই মাদক সেবন করার পর আমাদের সেন্ট্রাল নার্ভে কাজ শুরু করে। এটা ইউফোরিয়াস সৃষ্টি করে। এছাড়াও কোন দেশে স্বীকৃতভাবে এটা ব্যবহার হয় না।প্রাথমিক অনুসন্ধানে বের হয়ে আসছে, প্রথম পর্যায়ে তিন থেকে সাত কেজি ফেনইথাইলামিন প্রবেশ করেছে বাংলাদেশে। আজিজ নামে এক ব্যক্তির কাছে রয়েছে মাদকের এই মজুদ। দামি এই মাদকের রুট জানার জন্য আজিজের সন্ধানে রয়েছে র্যাব।লে. কর্ণেল মশিউর রহমান জুয়েল আরও বলেন, তারা (আজিজ) এটা বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করছে কি-না? অথবা অন্য দেশে নেয়ার জন্য বাংলাদেশকে রুট হিসেবে ব্যবহার করছে; সেটাই আমরা খতিয়ে দেখছি।