
তন্ময় ভক্তঃ গত জুলাই মাসে ২৯৩টি সড়ক দুর্ঘটনায় দেশব্যাপী ৩৫৬ জন নিহত হয়েছেন। এসব দুর্ঘটনায় আহত হয়েছেন আরো ৩৪১ জন। নিহতদের মধ্যে নারী ৬৪ জন এবং শিশু রয়েছেন ৩৫ জন। এছাড়া একই সময়ে ১৬টি নৌ-দুর্ঘটনায় ২৭ জন নিহত ও ২১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। এর বাইরে ৪টি রেল দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন আরো ৪ জন। বুধবার (৫ আগস্ট) সড়ক নিরাপত্তা বিষয়ক সংগঠন রোড সেফটি ফাউন্ডেশন এসব তথ্য জানিয়েছে। সংগঠনটি জানায়, করোনার ভীতি উপেক্ষা করে এবং কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে মানুষের অবাধ চলাচল। এসব দুর্ঘটনায় ট্রাক যাত্রী ১৮ জন, বাস যাত্রী ১৪ জন, পিকআপ যাত্রী ৯ জন, কাভার্ডভ্যান যাত্রী ৪ জন, মাইক্রোবাস যাত্রী ৫ জন, প্রাইভেটকার যাত্রী ২৩ জন, অ্যাম্বুলেন্স যাত্রী ৩ জন, ট্রলি যাত্রী ৬ জন, লরি যাত্রী ২ জন, সিএনজি যাত্রী ২২ জন, ইজিবাইক-অটোরিকশা যাত্রী ২০ জন, নসিমন-করিমন যাত্রী ১৩ জন, ভটভটি-আলমসাধু-মাহেন্দ্র যাত্রী ৯ জন, রিকশা ও রিকশাভ্যান যাত্রী ১১ জন, লেগুনা যাত্রী ৭ জন, টমটম যাত্রী ১ জন, পাওয়ার ট্রলারে ২ জন ও বাইসাইকেল আরোহী ৫ জন নিহত হয়েছেন। সংগঠনটি আরও জানায়, নিহতদের মধ্যে শিক্ষক ৭ জন, চিকিৎসক (ঢাকা মেডিক্যাল) ১ জন, সেনা সদস্য ১ জন, পুলিশ সদস্য ৪ জন, রেলওয়ে পুলিশ ১ জন, মেডিক্যাল টেকনোলজিস্ট ১ জন, স্বাস্থ্যকর্মী ২ জন, সাংবাদিক ৩ জন, এনজিও কর্মকর্তা-কর্মচারী ৭ জন, ইউনিয়ন পরিষদ মেম্বার ১ জন, স্থানীয় রাজনৈতিক নেতা ৬ জন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তারক্ষী ১ জন, সরকারি চাকরিজীবী ৮ জন, স্থানীয় ব্যবসায়ী ২১ জন, পোশাক শ্রমিক ১৩ জন, পাটকল শ্রমিক ১ জন, চা শ্রমিক ১ জন, প্রবাসী শ্রমিক ২ জন ও শিক্ষার্থী রয়েছেন ৩৯ জন।
রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণ বলছে, দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর বেশিরভাগই ঘটেছে ঢাকা বিভাগে। এখানে ৭০টি দুর্ঘটনায় ৭৬ জন নিহত হয়েছেন। সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে খুলনা বিভাগে। এ অঞ্চলে ২৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ২৭ জন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি ঘটেছে ময়মনসিংহে। এখানে ১৬ টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেব ১৯ জন। একক জেলা হিসেবে সবচেয়ে কম দুর্ঘটনা ঘটেছে মৌলভীবাজারে। এখানে ২টি দুর্ঘটনায় নিহত ১ জন। রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান বলেন, দেশে সড়ক দুর্ঘটনার প্রধান কারণগুলো হলো- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবাদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি ও গণপরিবহণ খাতে চাঁদাবাজি। এ সময় তিনি দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা; বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের মধ্যে ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্প গতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য পার্শ্ব রাস্তা তৈরি করা, পর্যায়ক্রমে সব মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা, গণপরিবহনে চাঁদাবাজি বন্ধ করা, রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করাসহ ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’র সুষ্ঠু প্রয়োগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান। জুন মাসের তুলনায় জুলাই মাসে সড়ক দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি উভয়ই বেড়েছে।