
নিউজ ডেস্কঃ ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে ঢাকা ওআইসি যুব রাজধানীর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। গতকাল সোমবার বিকেলে আনুষ্ঠানিকভাবে যুব রাজধানীর উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ভার্চুয়াল মাধ্যমে ওআইসি’র মহাসচিব ইউসুফ বিন আহমেদ আল ওথাইমিন, আজারবাইজানের যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রী আজাদ রহিমভ, গাম্বিয়ার আইন ও বিচার বিষয়ক মন্ত্রী ডাউডা এ. জালো, আইসিওয়াইএফ’র প্রেসিডেন্ট তাহা আইয়ান ও অন্যান্য বিশ্ব নেতারা উপস্থিত ছিলেন । প্রধান অতিথির বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে তারুণ্যের প্রতীক উল্লেখ করে বলেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ছিলেন তারুণ্য, উদ্দীপনা ও এক অনিঃশেষ প্রেরণার নাম। তিনি তারুণ্যের শক্তিকে কাজে লাগিয়ে সমৃদ্ধ, আত্ন-নির্ভরশীল ও উন্নত স্বনির্ভর জাতি গঠনের স্বপ্ন দেখেছিলেন।’ তারুণ্যের প্রতি জাতির পিতার এই আত্মবিশ্বাসের প্রতি সম্মান জানিয়ে আয়োজকদের বঙ্গবন্ধু গ্লোবাল ইয়ুথ লিডারশিপ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান তিনি। রোহিঙ্গা ইস্যুতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের নানা সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও মানবিক দিক বিবেচনা করে আমরা মায়ানমার হতে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত অসহায় প্রায় ১১ লক্ষ রোহিঙ্গাদের বাংলাদেশে আশ্রয় প্রদান করেছি। আমরা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় এই বিশাল সংখ্যক জনগোষ্ঠীকে তাদের নিজ মাতৃভূমিতে নিরাপদ ও সম্মানজনক প্রত্যাবসনের লক্ষ্যে কাজ করছি ।’
করোনাভাইরাস প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, ‘কোভিড-১৯ এর কারণে বিশ্ব অর্থনীতির আমূল পরিবর্তন ঘটছে। অভিবাসনসহ বিশ্ব বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নানা প্রতিবন্ধকতার সৃষ্টি হয়েছে। এখন সময় এসেছে মানব সমাজের অস্তিত্বকে টিকিয়ে রাখার স্বার্থে বৈশ্বিক সহযোগিতা জোরদার করা।’ সরকার কোভিড ১৯ মোকাবিলায় সম্ভাব্য সব ধরনের পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে বলে জানান তিনি। এ সময়ে প্রধানমন্ত্রী যুব সমাজকে তাদের নতুন উদ্ভাবনী চিন্তা ও চেতনার মধ্যে দিয়ে বৈষম্যহীন সহনশীল ও টেকসই সমাজ ব্যবস্থা বিনির্মাণের উদাত্ত আহ্বান জানান। প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকাকে ওআইসি যুব রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ওআইসিকে ধন্যবাদ জানান। জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন, যু্ব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. জাহিদ আহসান রাসেল ও যুব ও ক্রীড়া সচিব মো. আখতার হোসেন উপস্থিত ছিলেন ।
স্বাগত বক্তব্যে যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী জাহিদ আহসান রাসেল প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সার্বিক পৃষ্ঠপোষকতায় বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা এ বছর ওআইসি যুব রাজধানী হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছে। সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙালি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষে আন্তজার্তিক এ স্বীকৃতি জাতি হিসেবে আমাদের গর্বিত করেছে। ঢাকাকে ওআইসি যুব রাজধানীর স্বীকৃতি দেওয়ায় আমি ওআইসি মহাসচিব ও আইসিওয়াইএফ’র প্রেসিডেন্টসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’ যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘এ আয়োজনের মাধ্যমে বিশ্বে আমাদের যুবসমাজের অমিত সম্ভাবনা তুলে ধরা হবে। আমরা বর্তমানে ডেমোগ্রাফিক ডিভিডেন্ড এর সুবিধা ভোগ করছি। আমাদের মেধাবী ও দক্ষ যুব শক্তি রয়েছে। এছাড়াও রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীকে বাংলাদেশ সরকার যে মানবিক সহায়তা করছে সেটিও বিশ্ববাসীর কাছে উপস্থাপন করা হবে ।’
পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এ কে আব্দুল মোমেন তার বক্তব্যে বলেন, ‘আমরা গত ১২ এপ্রিল এই অনুষ্ঠানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতিতে আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। কিন্তু করোনা পরিস্থিতির কারণে আমরা নির্ধারিত কর্মসূচি স্থগিত করতে বাধ্য হই। তবে পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমরা ভার্চুয়াল প্লাটফর্মে নতুন আঙ্গিকে সকল কর্মসূচি বাস্তবায়নের উদ্যোগ গ্রহণ করেছি।’ তিনি আরও বলেন, ‘ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল-২০২০ হিসেবে বাংলাদেশের এই অর্জন তরুণ সমাজের জন্য অপরিসীম অনুপ্রেরণার সঞ্চার করেছে। বাংলাদেশের এই স্বীকৃতি বিশ্বব্যাপী বাংলাদেশের একটি উজ্জ্বল ও শক্তিশালী ভাবমূর্তি গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।’ বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে ওআইসি ইয়ুথ ক্যাপিটাল অনুষ্ঠানটি এবার ভার্চুয়ালভাবে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। গণভবন থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চুয়ালি দুই দিন ব্যাপী এ আয়োজনের উদ্বোধন ঘোষণা করেন ।