
নিউজ ডেস্কঃ অপহরণ করে ছিনতাই ‘নাটক সাজিয়ে’ টাকা আত্মসাতের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে সিলেট মহানগর পুলিশ। উদ্ধার করা হয় আড়াই লাখ টাকা। গ্রেফতার দু’জন হলেন- ছিনতাই নাটকের মূল হোতা সুনামগঞ্জের ছাতকের গোবিন্দগঞ্জ নতুন বাংলাবাজার গ্রামের রমজান আলীর ছেলে আব্দুল হক (১৯) এবং তার সহযোগী রাশেদ (২০)।তাদেরকে রোববার (৭ জুন) রাতে সিলেট নগরের আখালিয়াঘাট এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।সোমবার (০৮ জুন) বিকেলে নগর পুলিশের উপ কমিশনার (মিডিয়া) জেদান আল মুছা স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আব্দুল হক ও তার ছোট ভাই নাজমুল হক (১২) রূপালী ব্যাংক লিমিটেড মদিনা মার্কেট শাখা হতে ৩ লাখ ৬ হাজার টাকা উত্তোলন করেন। এই টাকা থেকে আব্দুল হক তার ছোট ভাই নাজমুল হকের কাছে ৫১ হাজার টাকা দেন এবং অবশিষ্ট ২ লাখ ৫৫ হাজার টাকা আব্দুল হক নিজের কাছে রাখেন।
পরবর্তীতে আব্দুল হক তার ছোট ভাই নাজমুল হকসহ ব্যাংকের নিচে নামার সঙ্গে সঙ্গে আব্দুল হকের পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী সুনামগঞ্জের ছাতকের নোয়ারাই গ্রামের মৃত শামসুদ্দোহা খানের ছেলে আব্দুল্লাহ আল সাদী (১৯) এবং এসএমপির জালালবাদ থানার নয়াবাজার ব্রাহ্মণশাসন এলাকার মারুফ আহমদের ছেলে কামরান মিয়া (২০) একটি সিএনজি অটোরিকশা নিয়ে ঘটনাস্থলে এসে আব্দুল হককে অপহরণ করেন।নাজমুল হক বাসায় গিয়ে পরিবারের সদস্যদেরকে ঘটনাটি জানান। তারা টাকা ছিনতাইয়ের বিষয়টি কোতোয়ালী থানা পুলিশকে জানান। কোতোয়ালী থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা ও নাজমুল হকসহ স্থানীয় লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আব্দুল হককে সন্দেহ করেন। তাকে থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতেই বেরিয়ে আসে আসল ঘটনা।
আব্দুল হক পুলিশের জেরায় স্বীকার করেছেন মামার পাঠানো উল্লেখিত টাকা আত্মসাতের উদ্দেশ্যে তার নিজের হাত ব্লেড দিয়ে কেটে সহযোগী আব্দুল্লাহ আল সাদী এবং রাশেদের মাধ্যমে ছিনতাইয়ের ঘটনা সাজান।তার স্বীকারোক্তি অনুযায়ী আখালিয়াঘাট আব্দুল্লাহ আল সাদীর বাসা থেকে ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা ও ব্যবহৃত মোবাইল জব্দ করা হয়।এ ঘটনায় সুনামগঞ্জের ছাতক থানার মোহাম্মদপুর গ্রামের আকবর আলীর ছেলে রিদানুল ইসলাম আজাদ বাদী হয়ে কোতোয়ালী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন। আটকদের ওই মামলায় গ্রেফতার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।