
নিউজ ডেস্কঃ আম্পানে আঘাতে কয়রার উত্তর বেদকাশী ইউনিয়নের হাজত খালি এলাকান রাবেয়া খাতুন ঘরবাড়ি হারিয়ে মানবেতর জীবন-যাপন করছেন। ৫ মাসের অন্তঃসত্ত্বা রাবেয়া এখন দিনের বেলা ছোট খুপড়ি ঘরে গরুর মলমূত্রের পাশে চেয়ার পেতে বসে থাকেন। তিনি বলেন, ‘নোনা পানিতে ঘরবাড়ি হারিয়ে বেড়িবাঁধের ওপর খুপড়ি ঘরে আছি। খাবার ঠিকমতো পাচ্ছি না। কোনও রকমে দিনে একবেলা খেয়ে টিকে আছি। ডাক্তার বলছেন তার রক্ত নেওয়া প্রয়োজন। কিন্তু কোনওভাবেই রক্ত নিতে পারছি না। রাবেয়ার মতো ঘূর্ণিঝড় আম্পানের আঘাতে লণ্ডভণ্ড একহাজার ৮৮৩ জন অন্তঃসত্ত্বা নারী ও প্রায় ২০ হাজার শিশু স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে রয়েছে। গর্ভবতী মায়েদের প্রয়োজনীয় সেবা ও খাদ্য নিশ্চিত করা কঠিন হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিভাগের দাবি, স্বাস্থ্য পরিচর্যা, নিয়মিত পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় ওষুধসহ টিকা দেওয়ার মাধ্যমে সেবা কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে ।
ঘরবাড়ি হারিয়ে দিশেহারা উত্তর বেদকাশীর গাজী পাড়ার খাদিজা বেগম। তিনি বলেন, ‘চারদিকে পানি। শিশু সন্তানকে কোল থেকে ছাড়ার সাহস হয় না। আর পানির মধ্যে খাবার জোগাড় করাও কঠিন হচ্ছে। এখন বেঁচে থাকার জন্য সাধারণ খাবারই পাওয়া কঠিন।’ কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. সুদীপ বালা বলেন, কয়রা উপজেলায় একহাজার ৮৮৩ জন গর্ভবতী মা রয়েছেন। আর শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সী প্রায় ২০ হাজার শিশু রয়েছে। তবে, তাদের স্বাস্থ্য সেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধ সরবরাহ করা হচ্ছে। স্বাস্থ্যকর্মীরা কাদা পানি ভেঙে ঘরে ঘরে যাচ্ছেন এবং তাদেরকে সেবা ও পরামর্শ প্রদান করছেন। গর্ভবতী মায়েদের নিয়মিত পরীক্ষা করা হচ্ছে। কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শিমুল কুমার সাহা বলেন, উপজেলার অধিকাংশ এলাকাতেই পানি জমে আছে। এ অবস্থার মধ্যে শিশু ও গর্ভবতী মায়েদের বিষয়টিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে ।