News71.com
 Bangladesh
 08 Jun 20, 10:35 AM
 290           
 0
 08 Jun 20, 10:35 AM

পাবনায় পালিত ‘ইমাম’ ছেলের হাতে সপরিবারে খুন হলেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা॥  

পাবনায় পালিত ‘ইমাম’ ছেলের হাতে সপরিবারে খুন হলেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা॥   

নিউজ ডেস্কঃ নিঃসন্তান দম্পতি ছিলেন কৃষি ব্যাংকের সাবেক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বার ও ছুম্মা খাতুন। দেড় বছর আগে বাসার পাশের মসজিদের ইমাম তানভীর হোসেনকে (২৫) ছেলের মতো আপন করে নেন তারা। তাদের বাবা-মা বলেই ডাকতো তানভীর। আর এই বৃদ্ধ দম্পতিকে হত্যার অভিযোগে তানভীরকই গ্রেফতার করেছে পুলিশ। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের বেরিয়ে এসেছে হত্যার কারণ ও বর্বরতার চিত্র। টাকা লোভে আব্দুল জব্বার, ছুম্মা খাতুন ও তাদের পালিত শিশু সন্তান সানজিদাকে হত্যার পর নগদ টাকা ও স্বর্ণালঙ্কার নিয়ে পালিয়ে যাওয়ার বর্ণনা উঠে এসেছে তার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে। গতকাল রবিবার (৭ মে) পাবনার আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে ‘ইমাম’ তানভীর হোসেন। এর আগে তাকে নওগাঁ জেলার মহাদেবপুরের হরিপুর গ্রামের নিজের বাড়ি থেকে গ্রেফতার করে পুলিশ ।

পাবনার পুলিশ সুপার শেখ রফিকুল ইসলাম জানান, টাকা পয়সা ও স্বর্ণালঙ্কার হাতিয়ে নেওয়ার জন্য জব্বার ও তার পরিবারের আরও দুই সদস্যকে হত্যার পরিকল্পনা করে তানভীর। গত ২৯ মে ছুটি নিয়ে হরিপুর গ্রামের বাড়ি চলে যায় সে। কিন্তু ছুটি শেষ হওয়ার আগেই ৩১ মে পাবনা ফিরে আসে। ওই রাতে ব্যাংক কর্মকর্তা আব্দুল জব্বারের বাড়িতে অবস্থান নেয় তানভীর এবং ঘুমায় আব্দুল জব্বারের সঙ্গে। রাত ৪টার দিকে ঘুম থেকে উঠে টয়লেটে যাওয়ার সময় জব্বারের পেছন থেকে গলায় গামছা পেছিয়ে ধরে তানভীর। জ্ঞান হারিয়ে পড়ে যান জব্বার। এরপর ঘুমন্ত অবস্থায় আব্দুল জব্বারের স্ত্রী ছুম্মা খাতুন ও মেয়ে সানজিদাকে (১২) কুপিয়ে ও কাঠের বাটাম দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করে তানভীর। স্ত্রী ও মেয়েকে হত্যার পর জব্বারের কাছে ফিরে এসে তাকে জীবন্ত পেয়ে বাটাম দিয়ে পিটিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর বাথরুমে গিয়ে রক্তমাখা কাপড়-চোপড় ধুয়ে গোসল করে বাসায় তালা দিয়ে নগদ ২ লাখ টাকা, এক লাখ ভারতীয় রুপি ও স্বর্ণের গহনা নিয়ে পালিয়ে যায় ।

ঘটনার পর বাড়িটি বাইরে থেকে তালাবদ্ধ থাকায় ভেতরে কী হয়েছে তা কেউ টের পায়নি বলে জানিয়েছে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার খন্দকার আরাফাত লেনিন। তিনি বলেন, 'বাড়ির ভেতরে থেকে পচা গন্ধ আসায় স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেয়। দরজা ভেঙে ৫ জুন তাদের ৩ জনের লাশ উদ্ধার করা হয়।' কারা কারা এই অবসরপ্রাপ্ত ব্যংক কর্মকর্তার বাড়িতে আসতো এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গিয়ে তানভীরের নামটি সন্দেহের তালিকায় আসে বলে জানান খন্দকার আরাফাত লেলিন। তিনি বলেন, 'স্থানীয়দের জিজ্ঞাসাবাদ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে তানভীরের অবস্থান শনাক্ত করে অভিযান পরিচালনা করেছি। নওগাঁ গ্রামের বাড়ি থেকে তাকে গ্রেফতার করেছি। আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে সে।' এর আগেও নওগাঁতে টাকা চুরির অপরাধে তানভীরের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা ।

Comments

নিচের ঘরে আপনার মতামত দিন