
নিউজ ডেস্কঃ খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ বিভিন্ন উপকূলীয় বাঁধগুলো দুর্যোগে আর শতভাগ নিরাপত্তা দিতে পারছে না। প্রথমত এগুলোর উচ্চতা কম। দ্বিতীয়ত চিংড়ি চাষিরা লবণাক্ত পানি প্রবেশ করানোর জন্য বিভিন্নভাবে বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত করেছেন। এছাড়া ঘূর্ণিঝড় আইলায় খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে প্রায় ৬০০ কিলোমিটার বাঁধ পানির তোড়ে ভেসে যায়। প্রায় ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বাঁধগুলো পুনঃনির্মাণ সংস্কার বা উঁচু করা হয়নি। ফলে ঝুঁকিতে রয়েছে এসব উপকূলের বাসিন্দারা। খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে মোট তিনটা প্রকল্প প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। উপকূলীয় বাঁধ উন্নয়ন প্রকল্প ফেজ আকারে প্রকল্প তিনটি বাস্তবায়িত হবে সমন্বিতভাবে।তিনটি প্রকল্পের মোট ব্যয় হবে ৩ হাজার ৫৬ কোটি টাকা। প্রথম ফেইজে ১২শ’, দ্বিতীয় ফেইজে ৯শ’ ও তৃতীয় ফেইজে ৯৫৬ কোটি টাকা প্রাথমিক ব্যয় নির্ধারণ করা হয়েছে।পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম প্রধান মন্টু কুমার ঘোষ বলেন, আম্পানে দুর্বল হয়ে পড়া বাঁধ পুনঃনির্মাণ দরকার। এই জন্য খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটে তিনটা প্রকল্প নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্প তৈরির কাজ প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। একটি প্রকল্পের ব্যয় ১২শ’ কোটি টাকা। অপর দুটি ৯০০ ও ৯৫৬ কোটি টাকা। এসব এলাকার মানুষের জানমাল রক্ষা করতেই প্রকল্পগুলো হাতে নেওয়া হচ্ছে।
সাতক্ষীরা পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্র জানায়, উপকূলের মানুষের দাবি ছিল, টেকসই বেড়িবাঁধ। ২০০৯ সালে আইলার পর ১০ বছরেও তা নির্মিত হয়নি। উপরন্তু, জোড়াতালি দিয়ে বাঁধ সংস্কারে অর্থের অপচয় হচ্ছে।শ্যামনগর ও আশাশুনির বেড়িবাঁধ এখনও বিধ্বস্ত অবস্থা রয়েছে। সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার গাবুড়া, পদ্মপুকুর, বুড়িগোয়ালিনী, মুন্সীগঞ্জ ও আশাশুনি উপজেলার প্রতাপনগর, আনুলিয়া ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষ আজও তাদের ভিটায় পা রাখতে পারেনি। সাতক্ষীরা শহরসহ বিভিন্ন এলাকায় ভাড়াবাড়িতে জীবন যাপন করছেন তারা। এখনও আকাশে মেঘ ডাকলেই কপোতাক্ষ, খোলপেটুয়া ও শাকবাড়ীয়া নদীর তীরবর্তী মানুষরা আঁতকে ওঠেন। পানি একটু বাড়লেই ঘুম বন্ধ হয়ে যায় তাদের। আম্পানে সাতক্ষীরায় ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে ভেসে গেছে ১২ হাজার ২৫৭টি ঘের ও পুকুর। এতে আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ১৭৬ কোটি ৩ লাখ টাকা।জলোচ্ছ্বাসে জেলার রামপাল, মোংলা, বাগেরহাট সদর, মোরেলগঞ্জ ও শরণখোলাতে সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। নতুন প্রকল্পের আওতায় বাঁধ পুনঃনির্মাণের পাশাপাশি নদীর তীর সংরক্ষণ করা হবে।বাগেরহাট পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আরিফ হোসেন বলেন, আম্পানে বাগেরহাটে ৪২০ মিটার বাঁধ ভেঙে গেছে। ৬ কিলোমিটার বাঁধ উঁচু করা জরুরি। ৯৫০ মিটার নদীর তীর সংরক্ষণ কাজ বাকি রয়েছে। এসব কাজ দ্রত বাস্তবায়ন জরুরি অন্যথায় যে কোনো দুর্যোগে বড় ক্ষতি হবে বাগেরহাটে।