
নিউজ ডেস্কঃ চীনে করোনাভাইরাসের কারণে স্থগিত হয়ে যাওয়া অনেক ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনও নতুন করে উৎপাদন শুরু করেনি। লকডাউন উঠিয়ে নিলেও দেশীও ও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যের চাহিদা হ্রাস, আমদানি-রফতানি বাণিজ্যে ব্যাঘাতসহ নানা কারণে এখনও পুরোদমে উৎপাদনে যেতে পারছেনা দেশটি। ফলে বর্তমানে চীনে বেকারত্ব বেড়ে গেছে কয়েকগুণ । অনেকে অসহায়ভাবে দিন কাটাচ্ছ। সরকারের তথ্য গোপন করা ও সমস্ত কিছু কঠোর নজরদারিতে থাকার কারনে এতথ্য জনসমক্ষে আসছে কম।
খোঁজ নিয়ে জানাগেছে করোনা পরবর্তী নিজেদের স্বাভাবিক বলে দাবী করলেও চীনে অবস্থান করা জাপান, জার্মানি এবং যুক্তরাষ্ট্রের বেশ কিছু সংখ্যক বিনিয়োগকারীও চীনে তাদের কোম্পানির উৎপাদন এখনও শুরু করেনি। ইতিমধ্যেই অনেকে বড় বড় বিদেশি কোম্পানি চীন থেকে তাদের কারখানা বাইরে নিয়ে যাওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। এমন কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ টানতে জমি প্রস্তুতসহ নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে ভারতসহ একাধিক দেশ। এ তালিকায় পিছিয়ে নেই বাংলাদেশও। এরইমধ্যে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে শুরু করেছে ।
চীন থেকে বিনিয়োগ অন্যত্র সরিয়ে নিতে পারে- এমন কোম্পানির তালিকায় আছে জাপানিজ হোন্ডা মটর, টয়োটা মোটর, মিৎসুবিশি, হেভি ইন্ড্রাস্ট্রিজ, লওসন, নিট্টো ডেনকো ও রোম। তারা চীনে উৎপাদন বন্ধ করে দিয়ে দক্ষিণ এশিয়ার নতুন কোনও স্থানে বিনিয়োগ স্থানান্তরিত করতে আগ্রহী। জাপানিজ নিক্কেই-এর এক জরিপে এ তথ্য পাওয়া গেছে। জরিপে ৮০টি কোম্পানিকে বিকল্প উৎপাদন পরিকল্পনার বিষয়ে প্রশ্ন করা হয়েছিলব। এতে ১৭টি কোম্পানি চীন থেকে তাদের উৎপাদন কার্যক্রম অন্য দেশ ও অঞ্চলে সরিয়ে নিতে পারে বলে জানিয়েছে ।
এছাড়া চীন-মার্কিন বাণিজ্যযুদ্ধের কারণে বেশ কিছু কোম্পানি তাদের বিনিয়োগ সরিয়ে নিতে তোড়জোড় শুরু করেছে। চলতি মাসের শুরুতে জাপান ব্যবসা স্থানান্তর করতে তাদের কোম্পানিগুলোর জন্য মোট ২.২ বিলিয়ন ডলার বরাদ্দ করেছে। তবে বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞদের মতে, অন্য দেশের তুলনায় চীনেই এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তাই ব্যাপক হারে কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ সরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি নাও হতে পারে। তাছাড়া বিনিয়োগকারীদের হাতে ব্যবসা সরানোর প্রয়োজনীয় অর্থ নাও থাকতে পারে ।
তবে চীন থেকে বিনিয়োগ সরাতে আগ্রহী দেশগুলোর পছন্দের জায়গার রয়েছে দক্ষিণ এশিয়া। এক্ষেত্রে চীনের বিকল্প বিনিয়োগ কেন্দ্র হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বী হয়ে উঠতে পারে একাধিক দেশ। মার্কিন সাময়িকী ফোর্বস জানিয়েছে, চীনের পার্শ্ববর্তী দেশ যেমন ভারত, ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড, বাংলাদেশ, কম্বোডিয়া, ইন্দোনেশিয়া উপযুক্ত উৎপাদন কেন্দ্র হয়ে উঠতে পরিবহন অবকাঠামো ও বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে বড় মাপের বিনিয়োগ করছে। মহামারী করোনাভাইরাসের কারণে চীন ছাড়তে ইচ্ছুক বিদেশি কোম্পানিগুলোর বিনিয়োগ নিজের দেশে টানার সুযোগ নিতে পারে বাংলাদেশও। বিনিয়োগ টানতে শিল্পগোষ্ঠী কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে আলোচনায় নামতে পারেন কূটনীতিকরা।